প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট থেকে ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় সাত হাজারের বেশি মাছের ঘের পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ঘেরের পাড় ভেঙে চিংড়ি, রুই, কাতলা, মৃগেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় হাজারো মৎস্যচাষি শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফকিরহাট, চিতলমারী, মোল্লাহাট, মোংলা, রামপাল ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং অধিকাংশ ঘের পানিতে ডুবে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ভাষ্য, ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবকিছু হারিয়ে এখন তারা চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছেন। অনেকেই আগামী মৌসুমে নতুন করে মাছ চাষ শুরু করতে পারবেন কি না, তা নিয়েও সংশয়ে আছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে পুনঃঋণ এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধে বিশেষ ছাড় দেওয়া প্রয়োজন।
মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে ক্ষতি কমাতে ঘেরের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
মৎস্যনির্ভর এই জেলার অর্থনীতিতে এ দুর্যোগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।