নজরুল ইসলাম, যশোর
শনিবার (১৮ জুলাই ২০২৬), রাত ৮:০৪ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভারতের আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও শর্তের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছে। সর্বশেষ অর্থবছরে বন্দরটি দিয়ে আগের বছরের তুলনায় রপ্তানি কমেছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৮২ মেট্রিক টন। বাণিজ্যে ধস নামায় বেকার হয়ে পড়েছেন কয়েকশ সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট কর্মচারী ও বন্দরের এক হাজারের বেশি শ্রমিক।
বেনাপোল বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ভারতে রপ্তানি হয়েছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ টন পণ্য। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ৩ লাখ ৮১ হাজার ৪৪০ টনে। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৩৫৮ মেট্রিক টন। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ ট্রাক পণ্য রপ্তানি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১০০ ট্রাকের নিচে।
ব্যবসায়ীরা জানান, ভারত ও বাংলাদেশের পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞার কারণে পাট, তৈরি পোশাক, কেমিক্যাল ও মেলামাইনসহ বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি প্রায় শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। ভারত সরকার আকাশপথে পণ্য রপ্তানি বন্ধের পাশাপাশি স্থলপথেও পাটজাত পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারও শিল্প রক্ষায় ভারত থেকে সুতা আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম বলেন, “ভারত বাধা হয়ে দাঁড়ালে আমাদের বিকল্প বাজার খুঁজতে হবে। দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিকল্প বাজার সম্প্রসারণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
বেনাপোল ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্টাস অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মতিয়ার রহমান বলেন, “ভারত-বাংলাদেশ-নেপাল-ভুটান ট্রানজিট সুবিধা কার্যকরভাবে ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে দেশি পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো গেলে বর্তমান বাণিজ্য ঘাটতি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এছাড়া স্থলপথে যেসব পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলো পুনরায় চালু করা জরুরি।”
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামিম হোসেন বলেন, “রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল কমেছে। বাণিজ্যের পরিমাণ কমে আসায় বন্দর দিয়ে সরকারের রাজস্ব আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। রপ্তানি বাণিজ্য বাড়াতে দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”