নজরুল ইসলাম, যশোর
বুধবার (২২ জুলাই), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বেনাপোল স্থলবন্দরে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমদানি পণ্য থেকে ১০ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে এ লক্ষ্যমাত্রা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭০২ কোটি টাকা কম। গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতি ও পণ্য আমদানির পরিমাণ কমে যাওয়ায় এবার সতর্ক অবস্থানে কর্তৃপক্ষ।
বেনাপোল কাস্টমস হাউস সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১১ হাজার ২৯০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও আদায় হয় মাত্র ৬ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। এতে ৪ হাজার ৭৩১ কোটি টাকার রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হয়। একই সময়ে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি প্রায় ১ লাখ ৯৭ হাজার মেট্রিক টন হ্রাস পায়।
নতুন অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ আশাবাদী হলেও ব্যবসায়ীদের ভিন্নমত রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, বৈধ আমদানি বাণিজ্যে সুবিধা নিশ্চিত করা, পণ্য পাচার ও রাজস্ব ফাঁকি রোধ এবং বাণিজ্যের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।
এদিকে গত ছয় মাসে বেনাপোল কাস্টমসে ১৩০টি জালিয়াতির ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। গত মাসে ২০ কোটি টাকার পণ্য পাচারের অভিযোগে দায়ের হওয়া চারটি মামলায় কাস্টমস, বন্দর ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যসহ ৫৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি, যা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
বেনাপোল আমদানি-রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আমদানি কার্যক্রম বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং পাচার ও অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার রাহাত হোসেন বলেন, রাজস্ব আহরণ বাড়াতে কাস্টমস কর্মকর্তারা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।