নিউজ ডেস্ক / নিজস্ব প্রতিবেদক
সোমবার (১৭ আগস্ট)
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ৫৩ দশমিক ৮০ শতাংশ বাড়িয়ে ৬০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৯ হাজার কোটি টাকা। নতুন নীতিমালায় ব্যাংকগুলোর মোট ঋণের অন্তত চার শতাংশ কৃষিতে বিতরণের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যা আগে ছিল আড়াই শতাংশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতিমালা ও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান নতুন লক্ষ্যমাত্রা ও নীতিমালার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
নতুন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর জন্য ২০ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা এবং বেসরকারি ও বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর জন্য ৩৯ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতে কৃষি খাতে বেসরকারি ও বিদেশি ব্যাংকের অংশগ্রহণ বাড়বে।
ড. হাবিবুর রহমান বলেন, “জাতীয় আয়ে কৃষির অবদান বিবেচনায় মোট ঋণের মধ্যে কৃষি ঋণের অংশ বর্তমানে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ কারণে কৃষি ঋণের অংশ আড়াই শতাংশ থেকে বাড়িয়ে চার শতাংশ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “কৃষক ঋণ নিয়ে উৎপাদন বাড়াবেন এবং সময়মতো ঋণ পরিশোধ করবেন—এটাই নীতিমালার মূল লক্ষ্য। প্রকৃত কৃষকের হাতে ঋণ পৌঁছানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ প্রকৃত কৃষক না হয়েও ঋণ নিলে সেই অর্থ ভিন্ন খাতে ব্যবহারের ঝুঁকি থাকে, যা অর্থপাচারের পর্যায়ে পড়তে পারে।”
নীতিমালায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণের জন্য স্থাবর সম্পত্তির পরিবর্তে ব্যক্তিগত বা দলবদ্ধ জামানতের সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া হ্যাচারিতে বাচ্চা উৎপাদন, উট পালন, ব্লুবেরি চাষ এবং জৈব সার উৎপাদনকে ঋণের আওতায় আনা হয়েছে। প্রকৃত কৃষক যাচাইয়ের জন্য কৃষি কার্ড বা স্থানীয় কর্মকর্তার প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং পাসবইয়ের বাধ্যবাধকতা বাতিল করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাংক ও গ্রাহকের সম্মতিতে কৃষকদের বিমা সুবিধার আওতায় আনার নিয়মও যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ঋণের অর্থ যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলোর ওপর নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। যাচাই না করে ঋণ দিলে তার দায়ভার সংশ্লিষ্ট ব্যাংককেই বহন করতে হবে।