মো: আরিফুল ইসলাম, পাবনা জেলা প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬), বেলা ১১টা ৩৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা সাহিত্য ও সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবং তাঁর শেষ ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁকে সমাহিত করা হয়। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর লেখনী ও দ্রোহ আজও বাঙালি জাতিকে অনুপ্রেরণা জোগায়।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর গানে লিখেছিলেন, ‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিও ভাই’। কবির এই ইচ্ছার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাঁর সমাধি রচিত হয়। তবে কবির স্ত্রী প্রমিলা দেবীর শেষ ইচ্ছা ছিল তাঁকে যেন চুরুলিয়ায় কবির পৈতৃক ভিটায় সমাহিত করা হয়, যা শেষ পর্যন্ত অপূর্ণ থেকে যায়।
মাত্র ২৩ বছরের সাহিত্য জীবনে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান। বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান এই কবি, ঔপন্যাসিক, নাট্যকার ও সংগীতজ্ঞ তাঁর সৃষ্টিকর্মে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। ব্রিটিশ শাসনামলে তাঁর কবিতা ও গান শোষিত মানুষের মনে প্রতিবাদের আগুন জ্বালিয়েছিল।
অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরকালীন দ্রোহের প্রতীক কাজী নজরুল ইসলাম ব্রিটিশ শাসকদের চক্ষুশূলে পরিণত হয়েছিলেন। এ কারণে তাঁকে কারা নির্যাতনও ভোগ করতে হয়েছে। সমাজে শান্তি, সাম্য ও মানবতা প্রতিষ্ঠার ব্রত নিয়ে তিনি আমৃত্যু সাহিত্যকর্মে আত্মনিয়োগ করেছিলেন।
কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন প্রতিটি শিল্পকর্মে। স্বদেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ করা তাঁর কালজয়ী রচনাগুলো তাঁকে বাঙালির হৃদয়ে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে। কবির মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন সর্বস্তরের মানুষ।