নিজস্ব প্রতিবেদক
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬), রাত ৮টা ৫২ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় পররাষ্ট্রনীতির সুবাদে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জন করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরের দুর্বল কূটনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে দেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর সফল ও সুদূরপ্রসারী পররাষ্ট্রনীতির বদৌলতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে। এই দিকনির্দেশনামূলক নেতৃত্বের ওপর ভিত্তি করেই দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরও সুসংগঠিতভাবে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর পারফরম্যান্স এবং বৈদেশিক শ্রমবাজার সম্প্রসারণ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধান, শ্রমিক রফতানি বাড়ানো কিংবা সর্বাধিক বাণিজ্য বিনিময়ে সফল মিশনগুলোর জন্য বর্তমানে কোনো বিশেষ পুরস্কার পদ্ধতি চালু আছে কি না, তা পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
বিগত ১৫ বছরের কূটনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, সে সময় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশন কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। দূতাবাসগুলোর কার্যক্রম, প্রবাসীদের সেবা এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় পূর্ববর্তী সরকারের কোনো কার্যকর তদারকি ছিল না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সেই স্থবির ও অকার্যকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে সমর্থ হয়েছে।
কূটনৈতিক মিশনের জবাবদিহিতা ও কেপিআই ব্যবস্থা
কূটনৈতিক মিশনগুলোর জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দূতাবাসের কাজের মান মূল্যায়নে সরকার ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ (কেপিআই) ব্যবস্থা প্রস্তুত করছে। এই কেপিআই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে প্রতিটি দূতাবাসের কাজের মান ও গ্রেডিং নির্ধারণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী জাতীয় বাজেট পেশের সময় প্রতিটি দূতাবাসের সাফল্য, ব্যর্থতা ও কাজের হালনাগাদ তথ্য সংসদ সদস্যদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপন করা হবে। কারণ এ সকল তথ্য জানার পূর্ণ অধিকার সংসদ সদস্যদের রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আয়তন, অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার এবং বৈশ্বিক কূটনীতির গুরুত্বের তুলনায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান বাজেট বরাদ্দ অপ্রতুল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।