জেলা প্রতিনিধি, রাঙ্গামাটি
শনিবার (২৯ আগস্ট), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছানোয় রাঙ্গামাটির কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। শনিবার রাত ১০টায় গেটগুলো খোলার কথা থাকলেও পানির চাপ দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই রাত ৮টায় কর্তৃপক্ষ এগুলো খুলে দেয়। এর ফলে প্রতি সেকেন্ডে ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক মাহমুদ হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে হ্রদের পানি ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ শনিবার দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫.৬৪ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। উল্লেখ্য, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।
হ্রদের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও বেড়েছে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৫টি ইউনিটের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২০২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা, হ্রদে পানির প্রবেশ ও বৃষ্টিপাতসহ সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বৃষ্টিপাত ও পানির উচ্চতার তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে স্পিলওয়ের গেট খোলার পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হতে পারে।
কাপ্তাই হ্রদের পানি ছাড়ার ফলে কর্ণফুলী নদীতে বড় ধরনের কোনো বন্যা বা ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে না। তবে কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের সময় পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নদী তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী বাসিন্দাদের নিরাপদ ও সতর্ক থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে গত ১৮ জুলাই কাপ্তাই বাঁধের জলকপাটগুলো খোলা হয়েছিল। এক মাসের ব্যবধানে পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে হ্রদের পানি পুনরায় বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্তৃপক্ষকে আবারও এই সিদ্ধান্ত নিতে হলো।