নিজস্ব প্রতিবেদক
রবিবার (৩০ আগস্ট, ২০২৬) | বিকেল ৪:২০
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। গুমের সঙ্গে জড়িত অপরাধী যত ক্ষমতাবানই হোক না কেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলেও জানান তিনি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। রাষ্ট্রপতি বলেন, কোনো মাকে সন্তানের জন্য কিংবা কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য আর চোখের পানি ফেলতে হবে না। গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তি স্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে, যা গুমের মাধ্যমে লঙ্ঘন করা হয়েছে।
বিগত দেড় দশকের ‘আয়নাঘর’ প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম ও গোপন বন্দিশালার দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। তিনি বলেন, “অন্যায়, ভিন্নমত প্রকাশ কিংবা গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করলেই অনেককে তুলে নিয়ে যাওয়া, গুম করা এবং গোপনে হত্যা করা হয়েছে। ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এসব গুরুতর অপরাধ সবসময় অস্বীকার করে গেছে।”
তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন ও বিচার প্রক্রিয়া
গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, কমিশন ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত। তিনি বলেন, রাষ্ট্রক্ষমতা আঁকড়ে রাখতেই দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে এসব পৈশাচিক কাজ করা হয়েছিল। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, “শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় থাকা পরিবারগুলোর মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এছাড়া সংসদ সদস্য, গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্য, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।