নিজস্ব প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবনের সকল দুয়ার। ফলে সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া ধরতে যাওয়ায় আর কোন বাধা রইল না। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় বনবিভাগের নির্ধারিত নিয়ম মেনে (পাশ) অনুমতি পত্র নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করছে জেলে-বাওয়ালি ও পর্যটকরা।
সুন্দরবনের প্রবেশ পথ খুলে দেওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের জেলে-বাওয়ালিদের মধ্যে কর্মব্যস্ততা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই জেলে-বাওয়ালিরা চুলা, জ্বালানি, চাল, ডাল, তরিতরকারি, পানি, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে নৌকা গুছাতে শুরু করেছে।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী, কদমতলা, কৈখালী ও কোবাদক এই ৪টি স্টেশন থেকে (পাশ) অনুমতি পত্র নিয়ে সুন্দরবন প্রবেশ করতে পারবে জেলে-বাওয়ালি ও পর্যটকরা।
সুন্দরবন খুলে দেওয়ায়, পর্যটকদের জন্যও উন্মুক্ত হয়েছে সুন্দরবনের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলীয় এলাকায় পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে ব্যস্ততা। বিভিন্ন পর্যটন ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিকরা দীর্ঘ বিরতির পর পর্যটক পরিবহনের প্রস্তুতি রয়েছে।
সুন্দরবনের দুয়ার খুললেও বনজীবীদের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। জেলেদের অভিযোগ, বনে মাছ ও কাঁকড়া আহরণে গেলে বনদস্যুদের চাঁদা ও অপহরণের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে জীবিকার তাগিদে বনে ফিরলেও নিরাপদে ফিরে আসতে পারবেন কি না এ নিয়ে তাদের মধ্যে শঙ্কা রয়েছে।
মুন্সিগঞ্জ মৌখালী গ্রামের জেলে শহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ তিন মাস পরে আজ সুন্দরবনে যাব- খুব ভালো লাগছে। মাছ-কাঁকড়া ধরে পরিবার-পরিজনের মুখে ভালো খাবার তুলে দিতে পারব। তিন মাস খুবই কষ্টে দিন পার করেছি অনেক টাকা ঋণ হয়েছি। সুন্দরবন থেকে আয় করে ঋণের টাকা শোধ করব ছেলেমেয়ে লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পারব।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালি গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন সুন্দরবন বন্ধ থাকায় খুব কষ্টে ছিলাম আজ সুন্দরবন খুলে দিছে। বন বিভাগের কাছ থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করব। কিন্তু ভয় হল একটা বনদস্যু যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তাদের টাকা পরিশোধ না করে গেলে ধরে আটকে রাখবে। একদিকে ঋণের বোঝা অন্যদিকে বনদস্যুর আতঙ্ক নিয়ে সুন্দরবনের প্রবেশ করতে হচ্ছে।
পর্যটকবাহী ট্রলার মালিক মোঃ সোহেল বলেন, দীর্ঘ সময় সুন্দরবনে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা থাকায় কোন পর্যটক সুন্দরবনে যেতে পারেনি। এ সময় আমাদের ট্রলারগুলো বসে থাকাই অনেক ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ করে মেরামত করেছি। পর্যটক আসবে তাদেরকে নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমণ করিয়ে যে টাকায় আয় করব সেই টাকা দিয়ে সংসার চালাবো এবং ঋণ শোধ করব।
সুন্দরবন বন্ধ থাকায় উপকূলীয় অঞ্চলের খাওয়ার ভোটের ও আবাসিক হোটেল গুলোও ছিলো বন্ধ। কারণ পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে সুন্দরবন উপকূলের হোটেল গুলো। হোটেল মালিকরা জানান, পর্যটক না আসায় হোটেলগুলো বন্ধ ছিল আজ থেকে সুন্দরবন খুলেছে আশা করছি এখন থেকে ভালো চলবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ উপেক্ষা করে সুন্দরবনে ঘুরতে আসা ঢাকা থেকে পর্যটক রহিম জানান, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য দুর্যোগ উপেক্ষা করে আজ সুন্দরবন খুলবে জেনে আমরা কয়েকজন বন্ধু ঘুরতে এসেছি। সুন্দরবনের প্রবেশের অনুমতি নিয়ে বিভিন্ন স্পট ঘুরে দেখব।
সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবাইকে নির্ধারিত নিয়ম মেনে অনুমতিপত্র নিতে হবে এবং বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে বনজীবীদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।