সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ৯ নং সেনগাঁও ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ বাজারে মরা শিমুল গাছ, আতঙ্কে পথচারী-ব্যবসায়ী-শিক্ষার্থীরা
পীরগঞ্জের ফকিরগঞ্জ বাজারের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা একটি মরা শিমুল গাছ এখন যেন নীরব বিপদের প্রতীক। দীর্ঘদিন ধরে গাছটি মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকলেও ঝুঁকিপূর্ণ এই গাছ অপসারণে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। প্রতিদিন বাজারে আসা পথচারী, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় মানুষের মাথার ওপর তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তার ওপর কাছেই বিজিবি ক্যাম্প থাকায় নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।
ফকিরগঞ্জ বাজার একটি ব্যস্ত জনসমাগমপূর্ণ এলাকা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাজারে মানুষের চলাচল থাকে। কেনাকাটা করতে আসা মানুষ, বিভিন্ন দোকানের কর্মচারী, যানবাহনের চালক ও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এই স্থান দিয়ে চলাচল করতে হয়। মরা শিমুল গাছটির বড় বড় ডালপালা যেকোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জীবিত একটি গাছ যেমন ছায়া ও পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ায়, তেমনি মৃত ও দুর্বল গাছ কখনো কখনো মানুষের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা দমকা বাতাসের সময় গাছের ডাল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “গাছটি অনেক দিন ধরে মরা অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন দোকান খুলে বসি, কিন্তু মাথার ওপর এমন একটি গাছ থাকায় স্বস্তি পাই না। কখন কোন ডাল ভেঙে পড়ে, সেটাই ভয়।”
এক পথচারী বলেন, “বাজারে প্রতিদিন অনেক মানুষ আসে। এখানে ছোট-বড় সবাই চলাচল করে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে গাছটি সরিয়ে ফেলা দরকার। দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নিলে তো ক্ষতি আর ফেরানো যাবে না।”
স্থানীয় এক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, “স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরাও বাজারের এই পথ ব্যবহার করে। অনেক সময় বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকা বা দোকানে প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সময় গাছটির নিচে থাকতে হয়। তাই বিষয়টি আমাদের জন্যও উদ্বেগের।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বাজারের মতো জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রেখে দেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গাছটি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে সাধারণ মানুষের ভয় অনেকটাই কমবে।”
স্থানীয়দের আরও দাবি, গাছটি শুধু বাজারের মানুষের জন্য নয়, পাশের বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের জন্যও সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করছে। একটি নিরাপত্তা স্থাপনার আশপাশে এমন ঝুঁকিপূর্ণ গাছ থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় গাছের ডাল বা কাণ্ড ভেঙে পড়লে চলাচল, স্থাপনা কিংবা বিদ্যুৎ সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছ সংরক্ষণ জরুরি। তবে মৃত, রোগাক্রান্ত কিংবা ভঙ্গুর গাছের ক্ষেত্রে আবেগের পাশাপাশি জননিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রয়োজন হলে নিরাপদভাবে অপসারণ এবং একই স্থানে উপযুক্ত প্রজাতির নতুন গাছ লাগানো যেতে পারে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরা শিমুল গাছটির বর্তমান অবস্থা যাচাই করবে। প্রয়োজন হলে নিরাপদ উপায়ে গাছটি অপসারণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি বাজারের অন্যান্য বড় গাছও নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা দরকার।
একটি দুর্ঘটনা অনেক পরিবারকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। তাই বিপদ ঘটার অপেক্ষা না করে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নেওয়াই দায়িত্বশীলতার পরিচয়। ফকিরগঞ্জ বাজারের মরা শিমুল গাছটি এখন সেই আগাম সতর্কতারই দাবি জানাচ্ছে।