তানভীর আহমেদ / জাককানইবি প্রতিনিধি
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর), সকাল ১০টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাককানইবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্র ফোরামের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, জিন্নাহর বাবা মাছ বিক্রি করতেন এবং তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জিন্নাহর পারিবারিক পটভূমি নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, ‘জিন্নাহর বাপ মাছ বিক্রি করত। হি ওয়াজ এ হিন্দু—আমি অশ্রদ্ধা করতেছি না।’ তবে ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, জিন্নাহর বাবা জিন্নাহভাই পুঞ্জা একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং পাকিস্তানি সরকারি নথিতে তাঁর পরিবারকে গুজরাটের প্যানেলি গ্রামের মুসলিম ব্যবসায়ী পরিবার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনের পরিবর্তন নিয়ে তিনি বলেন, ‘তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং পরে মুসলিম লীগে যোগ দিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৪ দফা দিলেন, হিন্দু-মুসলমান দুই জাতি করলেন, জিন্নাহ একটা পাকিস্তান বানালেন।’ ঐতিহাসিক তথ্যমতে, জিন্নাহ ১৯১৩ সালে মুসলিম লীগে যোগ দেন এবং ১৯২৯ সালে তাঁর ঘোষিত ১৪ দফায় মুসলমানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি ছিল।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠায় বাঙালিদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান আমরা সবাই মিলেই বানিয়েছিলাম। কিন্তু বানানোর পর যখন দেখলাম পাকিস্তান ভালো না, তখন ১৯৫২ সালেই আমরা লড়াই শুরু করি। আমরা ধর্মীয় জাতীয় সত্তায় নয়, নৃতাত্ত্বিক ও ভাষাভিত্তিক জাতীয় সত্তায় দেশ গড়তে চেয়েছি।’
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘আমার বয়স তখন ২৩ বছর। আমি যুদ্ধে গিয়েছিলাম। যুদ্ধে যাইনি শুধু, যুদ্ধকে সংগঠিত করেছিলাম।’ তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সত্যের পথে চলো। সত্য কথা বলো। অন্ধকারকে আলোকিত করার জন্য অন্তত একটি মোমবাতি হলেও হাতে নাও।’
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার খন্দকার নাজমুল হাসানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আলফারুন নাহার রুমার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রবীন্দ্র সৃজন কলা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক মো. নিজাম উদ্দিন।