জেলা সংবাদদাতা
শনিবার (৩ অক্টোবর) ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শরীয়তপুরের ডামুড্যায় নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর ডোবা থেকে সোয়াইফ হোসেন (সাড়ে ৩) নামে এক শিশুর গলাকাটা বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম আদাসন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে রাসেল শিকদার নামে এক প্রতিবেশীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সোয়াইফ ওই এলাকার সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী আলী আকবর শিকদারের পরিবারের ঝগড়া হয়। এর জেরে শিশুটিকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকাল ৭টার দিকে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় সোয়াইফ। পরে পরিবারের সদস্যরা প্রতিবেশীর বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত শিশুর বাবা সেলিম সরদার বলেন, “সকালে বাজার থেকে ফিরে ছেলেকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। পরে থানায় সাধারণ ডায়েরি করি। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় ডোবা থেকে ছেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।”
হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত আলী আকবর শিকদারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যরা গা-ঢাকা দিয়েছেন।
শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) শামসুল আরেফীন বলেন, “উদ্ধারকৃত শিশুটির গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন হিসেবে রাসেল শিকদার নামে একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শিশুটিকে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।