জেলা প্রতিনিধি, কিশোরগঞ্জ
শনিবার (৩ অক্টোবর), সন্ধ্যা ৭টা ৪ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে চার পরিবারের পাঁচ শিশুকে অর্থের বিনিময়ে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। মাদকাসক্ত বাবা-মায়েরা সন্তানদের বিক্রির টাকা দিয়ে নেশা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামের চারটি পরিবার পৃথক সময়ে তাদের পাঁচ সন্তানকে টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে হস্তান্তর করেছে। এর মধ্যে দুলাল মিয়ার ছেলে জাকির হোসেন ও তার স্ত্রী ফারজানার নবজাতক সন্তানকে ৬০ হাজার টাকায়, জজ মিয়ার ছেলে সাদ্দাম হোসেনের দুই সন্তানকে যথাক্রমে ১ লাখ ৫০ হাজার ও ২০ হাজার টাকায়, আসাদ মিয়ার ছেলে জাকির হোসেনের সন্তানকে ৭৭ হাজার টাকায় এবং মৃত মফিজ উদ্দিনের ছেলে আসাদ মিয়ার সন্তানকে ২ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, শিশুদের যাদের কাছে দেওয়া হয়েছে, তাদের কেউ কেউ পরে বেশি টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছেন। এতে এসব শিশুর বর্তমান অবস্থান ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, মাদকের ভয়াবহ বিস্তারের কারণে সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং এলাকাটি নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে।
এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদেরও ছোট ছোট সন্তান রয়েছে। প্রতিবাদ করলে আমাদের সন্তানদেরও অন্যত্র বিক্রি করে দিতে পারে—এমন আতঙ্কে আমরা ভুগছি।’
গ্রামের বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, মাদকসেবীরা নিজেদের সন্তানদেরও মাদকের সংস্পর্শে নিয়ে আসছেন। পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে মাদক সেবন করানোর ঘটনাও তাদের নজরে এসেছে। অনেক বাড়িতে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসে মাদক সেবন করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামে মাদকের ছোবল ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাদক সেবনের টাকা জোগাড় করতে বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি শিশু সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার কথা শুনতে পেরেছি। পরিষদের সব সদস্য ও প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কাজ করব।’
কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের উত্তর চরপুক্ষিয়া গ্রামটি খুবই দরিদ্র এবং সেখানে মাদকসেবীর সংখ্যা বেশি। মাদকের টাকা জোগাড় করতে সন্তানদের অন্যের কাছে তুলে দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। মাদক নির্মূলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে।’