জহুরুল হক, দৌলতপুর (কুষ্টিয়া)
শনিবার (৩ অক্টোবর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ইকুড়ি মরার চরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গোলাম মোস্তফা ওরফে ট্যাঙ্গর (৬০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই খুনের ঘটনাকে পুঁজি করে প্রতিপক্ষ গ্রুপের অন্তত ৫০টি বাড়িতে লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার এড়াতে এবং নিরাপত্তার অভাবে চরাঞ্চলের নতুনপাড়া এলাকা পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে পটল গ্রুপ ও আজাদ বিশ্বাস গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে পটল গ্রুপের প্রধানের ভাই গোলাম মোস্তফা নিহত হন। এরপর পটল ও তার ছেলে মাসুমের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল আজাদ বিশ্বাস গ্রুপের লোকজনের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের উপস্থিতিতেই তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
ভুক্তভোগী টনি বিশ্বাস, লায়েব ও রাজন জানান, হামলাকারীরা বাড়িঘর থেকে নগদ ১৮ লক্ষ টাকা, ৪০ ভরি স্বর্ণালংকার, ২০টি গরু, ৪০টি ছাগল, ৩০টি ভেড়া এবং টিভি-ফ্রিজসহ প্রায় ২ কোটি টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এমনকি তারা বাড়ির নারীদের মারধর করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সংঘর্ষে ট্যাঙ্গর নামে একজন নিহত হওয়ার পর পটল ও তার ছেলে মাসুমসহ ২৫-৩০ জন মিলে প্রায় ৫০টি বাড়িতে লুটপাট চালিয়েছে। তারা গরু, মহিষ, ছাগল, হাঁস-মুরগি এমনকি থালাবাসন পর্যন্ত নিয়ে গেছে বলে আমি জানতে পেরেছি।”
লুটের শিকার পরিবারগুলোর অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে পটলের ছেলে মাসুম ও তার সহযোগীরা এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে। ভুক্তভোগীরা থানা পুলিশ ও বিজিবির কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে গোলাম মোস্তফা নিহত হওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত আসামি শাহজামালকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে লুটপাটের বিষয়টি সঠিক নয়। টহলরত বিজিবি এক জোড়া গরু কে বা কারা নিয়ে যাওয়ার সময় আটক করে ক্যাম্পে রেখেছে।”