মোঃ কামরুল ইসলাম, রাঙামাটি প্রতিনিধি
রবিবার (৪ অক্টোবর), সন্ধ্যা ৭টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ প্রমিলা কাবাডি টুর্নামেন্টের প্রথম আসরের শিরোপা জিতেছে জুরাছড়ি উপজেলা একাদশ। রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে রাঙামাটির কুমার সমিত রায় জিমনেসিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে কাউখালী উপজেলা একাদশকে ৩১-২৪ পয়েন্টে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে তারা। জেলার ১০টি উপজেলার অংশগ্রহণে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট পাহাড়ের নারী ক্রীড়াঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।
ফাইনালে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলা উপহার দেয় জুরাছড়ি উপজেলা একাদশ। কাউখালী উপজেলা একাদশও দুর্দান্ত লড়াই করে, তবে শেষ পর্যন্ত ৩১-২৪ পয়েন্টের ব্যবধানে জয় তুলে নেয় জুরাছড়ি। খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সভাপতি দীপন তালুকদার দীপু বলেন, “পাহাড়ের নারীদের খেলাধুলায় এগিয়ে নিতে জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ প্রমিলা কাবাডি টুর্নামেন্টের আয়োজন একটি নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছে। সঠিক চর্চা, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ পেলে রাঙামাটির মেয়েরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারবে।”
ক্রীড়াক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ যত বাড়বে, সমাজে তাদের আত্মবিশ্বাস ও নেতৃত্বের সক্ষমতাও তত বেশি বিকশিত হবে। রাঙামাটির ক্রীড়াঙ্গনে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “প্রমিলা কাবাডি টুর্নামেন্ট শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি পাহাড়ি-বাঙালি মেয়েদের আত্মবিশ্বাস, শারীরিক সক্ষমতা ও প্রতিভা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।”
টুর্নামেন্টটিতে রাঙামাটি জেলার ১০টি উপজেলা থেকে ১০টি দল অংশ নেয়। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে জুরাছড়ি ও কাউখালী উপজেলা একাদশ ফাইনালে জায়গা করে নেয়। ফাইনাল ম্যাচটি ঘিরে জিমনেসিয়াম হলরুমে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজন পাহাড়ের নারী খেলোয়াড়দের জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসার পথ সুগম করবে।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ রুহুল আমীন, জেলা পরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ মামুন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী ও সাবেক শিক্ষা কর্মকর্তা অঞ্জলিকা খীসা।