নিউজ ডেস্ক
শনিবার (১৭ অক্টোবর), ২০২৬
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর ফ্রুইটা শহরে ১৯৪৫ সালে মাথা কাটার পরও ১৮ মাস বেঁচে ছিল ‘মিরাকল মাইক’ নামের একটি মোরগ। কৃষক লয়েড ওলসেন রাতের খাবারের জন্য মোরগটির মাথা কাটলেও সেটি মারা না গিয়ে অদ্ভুতভাবে বেঁচে থাকে এবং দীর্ঘ সময় দেশজুড়ে বিস্ময় সৃষ্টি করে।
ঘটনাটি ১৯৪৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বরের। লয়েড ওলসেন তার তরুণ মোরগ মাইকের মাথা কুড়াল দিয়ে কেটে ফেলেন। কিন্তু মৃত্যুর পরিবর্তে মাইক উঠে দাঁড়ায় এবং খাবারের জন্য ঠোকর দিতে শুরু করে। ঘটনার অলৌকিকতা বুঝতে পেরে ওলসেন সেটিকে মেরে না ফেলে যত্ন নেওয়া শুরু করেন।
পরবর্তী ১৮ মাসে মিরাকল মাইক দেশজুড়ে তারকা বনে যায়। সাইডশো প্রমোটার হোপ ওয়েড মাইকের নামে ১০ হাজার ডলারের বিমা করান। দর্শকরা ২৫ সেন্ট দিয়ে মাথা ছাড়া এই অনন্য জীবকে দেখতে ভিড় করত।
বেঁচে থাকার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
বিজ্ঞানীদের মতে, মাথা কাটার সময় মাইকের মস্তিষ্কের মূল অংশ এবং একটি কান অক্ষত ছিল। মুরগির রিফ্লেক্স ও মৌলিক শারীরিক কাজগুলো ব্রেইনস্টেম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় সে বেঁচে ছিল। ধারণা করা হয়, তার মস্তিষ্কের প্রায় ৮০ শতাংশ অংশ অক্ষত ছিল, যার ফলে সে দাঁড়াতে ও ঠোকর দিতে পারত।
মাইককে বাঁচিয়ে রাখতে ওলসেন ড্রপারের সাহায্যে গলায় তরল খাবার ও পানি দিতেন এবং সিরিঞ্জ দিয়ে শ্বাসনালী পরিষ্কার করতেন। ১৯৪৭ সালের এক রাতে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে ওলসেন সময়মতো সিরিঞ্জটি খুঁজে না পাওয়ায় দমবন্ধ হয়ে মাইকের মৃত্যু হয়।
মাইকের স্মৃতি রক্ষায় কলোরাডোর ফ্রুইটা শহর প্রতি বছর ‘মাইক দ্য হেডলেস চিকেন ডে’ উদযাপন করে। নানা প্রতিযোগিতা ও আয়োজনের মাধ্যমে অসম্ভবকে সম্ভব করা এই মোরগকে আজও স্মরণ করে স্থানীয়রা।