স্টাফ রিপোর্টার। যশোরের বাঘারপাড়ায় চলতি মৌসুমে আখের বাম্পার ফলন হয়েছে এবং কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই কমবেশি আখের আবাদ হয়েছে। উপযুক্ত দামে আখ বিক্রি করতে পারায় খুশি কষকেরা। যার কারনে গতবারের তুলনায় এবার চাষ হয়েছে বেশি। রোগবালাই কম এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর কৃষকের আখের ফলন ভালো। মূলত আখ চাষ বেলে দোঁ- আশ মাটিতে ভালো হয়। এ কারনে বাঘারপাড়া মাটি আখ চাষের উপযোগী।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতর সূত্র থেকে জানা গেছে, চলতি বছর উপজেলার কৃষকরা লোকসান কমাতে ও অধিক লাভের আশায় আখ চাষের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন চাষিরা। এই ফসল আবাদ করলে ৭ থেকে ৮ মাসের মধ্যে বাজারজাত করা যায় । চলতি বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আখের ফলন ভালো হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, এ বছর বাঘারপাড়াতে ৯০ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে। যা গতছরের তুলনায় ৫ হেক্টর বেশি। উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের দোহাকুলা, শুকদেবনগর, নওয়াপাড়া বহরমপুর বেশি আখ চাষ হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে এ ইউনিয়নে ৫৮ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। অন্য ইউনিয়নের মধ্যে নারিকেল বাড়িয়ায় ১১হেক্টর, দরাজহাটে ৯ হেক্টর, জামদিয়ায়, ৮ হেক্টর, বাসুয়াড়িতে ৩ এবং পৌরসভাতে ১ হেক্টর জমিতে আখ চাষ হয়েছে।
বাঘারপাড়ায় এক সময় ঢাকা, বরিশাল, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরার ব্যাপারীরা আখ কিনতে আসতেন। সেই ব্যাপারীরা অনেকে আগের মত আর আসেন না। বর্তমানে সময়ের প্রয়োজনে পরিবহন ব্যবস্থায় ভাড়া বেশি হওয়া তারা অন্য দিকে ঝুকছে। বাঘারপাড়ার আখের মান ভালো হওয়ায় বর্তমানে পার্শ্ববর্তী মাগুরা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা কুষ্টিয়া জেলার ব্যাপারীরা এ অঞ্চলের আখের প্রধান ক্রেতা। এসব ব্যাপারীরা মূলত মিনি পিক-আপ, এবং করিমন নসিমনে আখ পরিবহন করে। যার ফলে তাদের ব্যায় হ্রাস এবং সময় সাশ্রয় হওয়ায় তাদের প্রথম পছন্দ বাঘারপাড়া।
দোহাকুলা গ্রামের চাষী শামীম ওসমান বলেন, আমি সাতাশ শতক জমিতে আখ চাষ করে ১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। একই গ্রামের আমানত আলী পনেরো শতক জমির আখ ৯০ হাজার টাকা বিক্রি করেছে। কৃষক হাবিব মিয়া বলেন, ‘আখ আবাদ করার পর একটু পরিচর্যা করলেই ভালো ফলন পাওয়া যায়।’
আর এক চাষি রহিম আলি বলেন, ‘আখ চাষ করলে অল্প খরচে বেশি লাভবান হওয়া যায়। কিন্তু ঠিকমতো পরিচর্যা করতে হয়। মৌসুমের শেষ সময়ে আখের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে।
আখ চাষ সম্পর্কে জানতে চাইলে বাঘারপাড়া উপজেলার নবাগত কৃষি কর্মকর্তা সায়েদা নাসরিন জাহান বলেন, আমি নতুন এসেছি। যতটুকু জেনেছি গতবছরের চেয়ে এবার আখ চাষ বেশি হয়েছে। এখানে গেন্ডারি জাতের আখ চাষ বেশি হয়। তবে ভিয়েতনামের একটা জাত আছে, এটা বেশি লাভজনক। এটা কেউ চাষ করতে চাইলে পরমার্শ এবং সহযোগীতা করা করা হবে।উল্লেখ্য, এক দশক আগেও এ অঞ্চলে ২০০ হেক্টরের বেশি জমিতে আখ চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে আখ চাষের জমির লীজের দাম বৃদ্ধি, সার কীটনাশকের দাম বৃদ্ধি, প্রাকৃতিক দূর্যোগ, ও শ্রমিক অপ্রতুলতার কারনে পূর্বের তুলনায় চাষ কম হয়।