স্টাফ রিপোর্টার। যশোরের মনিরামপুর-অভয়নগর সীমান্তে চাঁদা না পেয়ে মৎস্য ঘেরের কর্মীকে বেঁধে অফিসসহ ৪টি টোঙ ঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে এক রাউন্ড ফাঁকাগুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আতঙ্কে আছেন এলাকাবাসী।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
শুক্রবার ঘের মালিক কামরুল হাসান মধু বাদি হয়ে মনিরামপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অভয়নগরের পার্শ্ববর্তী বাজে কুলটিয়া গ্রামে বিল বোকড়ে ৮৬০বিঘার একটি মাছের ঘেরে অফিস ও টোঙ ঘরে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
মনিরামপুর-অভয়নগর সীমান্তের কুলটিয়া এলাকায় কামরুল হাসান মধু, শ্যামল সিংহ, মোস্তাক আহমেদ তারা তিনজন মিলে যৌথভাবে মৎস্য চাষ করে আসছেন। শুক্রবার রাত ১০টার সময় ৬-৭ জনের দুর্বৃত্তের দল ওই ঘেরে ঢুকে ঘেরের কর্মচারী গণেশ বিশ্বাসকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার হাত, পা ও মুখ বেঁধে ঘেরে থাকা চারটি টোঙ ঘর, একটি অফিস কক্ষ , রান্না ঘর, মাছের খাবারের ঘর ও একটি স্টোররুমে আগুন ধরিয়ে দেয়।
দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যাওয়ার সময় এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। ঘেরের কর্মচারী গণেশ বিশ্বাস কোনো মতে হাত খুলে মালিক কামরুল হাসান মধুকে ফোন দেন। এ সময় তিনি স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস অফিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘের মালিক দাবি করেন ক্ষতির পরিমাণ ৫০লাখ টাকা। পরে মনিরামপুর থানার ওসি ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন।
মৎস্য ঘেরের কর্মচারী গণেশ বিশ্বাস জানান, ঘুময়ে থাকা অবস্থায় রাতে ৬-৭জন অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার হাত পা বেঁধে ঘেরের পাশে রেখে এসব ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় এবং তাকে বলতে থাকে এত বড় ঘের করিস। আমাদের কোনো চাঁদা দেয় না তোর মহাজোনেরা। পরে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।
ঘের মালিক কামরুল হাসান মধু, শ্যামল সিংহ, মোস্তাক আহমেদ বলেন, একটি সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদার টাকা না দেয়ার কারণে তারা এমন ক্ষতি করেছে। এ ঘটনায় শুক্রবারে থানায় অভিযোগ দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছে।
বিষয়টি সম্পর্কে মনিরামপুর থানার ওসি শেখ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘আমি ঘটনা শুনে একজন এসআইসহ পুলিশ পাঠিয়েছিলাম, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছেন। এটা খুবই দুঃখজনক। ঘের মালিকদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। খুব দ্রুতই দোষীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।