দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধ। সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার পারুলিয়া অবস্থিত স্বপ্ন বাজার মালিকের সাথে অভিনব কায়দায় প্রতারণার ফাঁদে পড়লো স্বপ্ন বাজারের প্রোপাইটারের অভিযোগ। প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজ, পিতাঃ সেলিম গাজী।দক্ষিণ কাঠিয়া,কলেজ রোড সাতক্ষীরা।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
স্বপ্ন বাজার (প্রোঃ) মোঃ ইছা আমিন (ইটালি প্রবাসী), তার ছেলে হাসিব হোসেন, বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানটি তার বাবার অনুপস্থিততে মোঃ হাসিব হোসেন পরিচালনা করতে গিয়ে, সে প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজের পাল্লায় পরে প্রতারিত হন। স্বপ্ন বাজারের, পরিচালক হাসিব হোসেন বলেন মোঃ ইছা আমিন (ইটালি প্রবাসী) আমার বাবার সাথে কথা হয় ডেকোরেশন মিস্ত্রি প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজের সাথে। “আমি আমার প্রতিষ্ঠানের ডেকোরেশন মেলামাইন বোর্ড দিয়ে তৈরি করতে চাই, তাতে সব মিলিয়ে কত টাকা খরচ হতে পারে। তখন প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজ আমার বাবাকে বলেন, এই মেলামাইন সামগ্রী বোর্ড দিয়ে ডেকোরেশন করতে আপনার প্রায় ১০ থেকে ১২ লক্ষাধিক টাকা খরচ হতে পারে । তার এই মৌখিক কথা মতো আমার বাবা তাকে বিশ্বাস করে কাজ শুরু করতে বলেন। আমার বাবার অনুমতি পেয়ে প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজ সে তার নিজের প্রস্তুতি নিয়ে স্বপ্ন বাজারের ডেকারেশনের কাজ শুরু করে । আমার বাবার কথা ছিলো ১৬ মিলি মেলামাইন,উন্নত মানের লাইটিং ও রং দিয়ে ডেকোরেশন তৈরি করতে হবে।
ডেকোরেশনের ইন্টোরিয়র সামগ্রী ও মালামাল কেনার কথা হইলে প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজ বলে, আপনারা মালামাল ক্রয় করলে অনেক দিক থেকে ঠকবেন যেহেতু আমি মিস্ত্রি আমাকে ঠকানো সম্ভব না। আপনি আমাকে বিশ্বাস করে মালামাল ক্রয় করার দায়িত্ব আমাকে দিতে পারেন। তার কথার ওপর বিশ্বাস্ত হয়ে আমার বাবা তাকে মালামাল ক্রয় দায়িত্ব দেন। কিন্তু তার সাথে কথা থাকে মালামাল কেনার রশিদ নিয়মিত আমাদের বা আমার ছেলেকে দিতে হবে। কিন্তু সে কাজ করার সময়, মেলামাইন সামগ্রী দিয়ে কাজ না করে, নিম্নমানের ও কম দামের ৮,১২,১৬ মিলি উডটেক্স দিয়ে কাজ করে। কিছু কাজ করার পরে আমার বাবা, কাজ দেখতে গিয়ে দেখেন, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সে কাজ শুরু করেছে। বাবার সাথে যে ভাবে কাজ করার জন্য কথা হয়েছিল। কিন্তু প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজ, বাবার কথা মতন কাজ করছে না ওমালামাল চালানের কোন কপি দিচ্ছে না। তখন আমার বাবা, প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজকে কাজ বন্ধ করার জন্য বলেন। কিন্তু প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজ, আমাকে ও আমার বাবাকে বিভিন্ন রকম কথা ও ভুল বুঝিয়ে, সে কাজ চলমান রাখে।
আমি বারবার বলার পরও আমাকে ও আমার বাবাকে ভুল বুঝিয়ে তড়িঘড়ি কাজ শেষ করার চেষ্টা করতে থাকেন। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ডেকোরেশন করার ফলে,সল্প সময়ে ডেকোরেশন গুলো নষ্ট হওয়ার পর্যায়ে । আমার বাবার সাথে ওই প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজের লেনদেন হয়, কখনো ক্যাশে,আবার কখনো নগদ মোবাইল ব্যাংকিং বা বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং এ , কখনো ব্যাংকের একাউন্টে , এভাবে সে আমার বাবার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে থাকে এক পর্যায়ে তাকে দেওয়া সমুদয় টাকার ইিসাব এর কথা বললে তখন ও সে আমাদের কে বিভিন্ন অজুহাত দেখানো শুরু করে সে বলতে শুরু করে কাজ শেষ করে একেবার হিসাব এ বসবো এসব কথা শোনার পর আমরা তাকে কঠোর ভাবে বার্তা দেই হিসাবে বসার। হিসাবে বসার কথা বললে সে তার চলমান কাজ বন্ধ করে দিতো এবং আমাদের সাথে যোগাযোগ বিছিন্ন রাখতো এবং তার ধরা অন্য জায়গার কাজগুলো করে বেড়াতো। অপর দিকে আমাদের কাজের কোনো মূল্যায়ন করতো না । এসকল পরিস্থিতি শিকার হয়ে পরিশেষে কোনো উপায় না পেয়ে আমরা ও তার কথা মেনে নিয়ে স্বপ্ন বাজার এর কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ করি ।
অপর দিকে বিভিন্নভাবে আমার বাবার কাছ থেকে প্রতারক সবুজ, সর্ব মোট ( ১৭ লক্ষ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা মাত্র) হাতিয়ে নেয় ।এত গুলো টাকা দেওয়ার পরে আমার বাবার মনে সন্দেহ জাগে যে, সে কোন দোকান থেকে মালামাল কেনাকাটা করতেছে। সেই মালামাল কেনাকাটার চালান বিল কপি সবুজ এর থেকে আমার সংগ্রহ করতে হবে । এমন অবস্থায় আমার বাবা মোঃ ইছা আমিন (ইটালি প্রবাসী) প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজ এর কাছে চালান বা বিল কপি চাইলেন এবং তখনি প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজকে, বাবা ডেকে বললেন এ যাবৎ তুমি যে, দোকান থেকে যত মালামাল কেনাকাটা করেছো,এ সব গুলো মালামালের লিস্ট তালিকা সহ- চালান কপি আমার কাছে হস্তান্তর কর। আমি চালান বা বিল নিয়ে সেসকল দোকান মালিকের সাথে কথা বলবো । আমার আব্বু সমস্ত মালামালের লিস্ট তালিকা সহ চালান বিল কপি চাওয়ার পর, সে বাবার সাথে বিভিন্ন রকমের ছলচাতুরি করতে থাকে ও বিভিন্ন অজুহাতে, ভুলভাল বুঝাতে থাকে। অন্তত পক্ষে এক সপ্তাহ ঘুরিয়েছেন । তার এসকল কর্মকান্ডে আমার বাবাকে অনেক হয়রানিও মানসিক টেনশনে ভুক্তে হয়েছে। তারপরে আমার বাবা চালান বিল কপি নেওয়ার জন্য অনেক চাপ সৃষ্টি করার পরে, প্রতারক সবুজ আমার বাবা থেকে কিছুদিন সময় চেয়ে চালান-বিল কপি হস্তান্তর করেছিলেন, কিন্তু সে গুলো অরজিনাল বিল চালান কপি ছিল না। সেই বিল চালান ছিল তারই পরিচিত দোকানদারের কাছে থেকে নেওয়া সাদা বিল চালান। এসকল সাদা বিল চালান কপি নিয়ে সে নিজ হাতে বিল লিখে বাবাকে হস্তান্তর করেছিল।
একপর্যায়ে সে বিল- চালান কপি নিয়ে আমার বাবা প্রমাণ করার জন্য, ওই সকল দোকানদারের সম্মুখীন হন। তখনই ওই দোকান মালিকের সাথে বাবা কথা বলেন,প্রতারক আশরাফুল আলম সবুজের দেওয়া চালান বিল অনুযায়ী তিনি শোনেন, এ বিল চালান কপি কি আপনার দোকানের? তখন ওই দোকানদার স্বীকার করেন, হ্যাঁ আমার দোকানের। কিন্তু আমরা তো বিল চালান করি বাংলাতে লিখে,এ বিল চালান আমরা তো ইংরেজীতে লিখি না। তারা আরো বলেন আমরা নিজেদের নাম ই ঠিক মতো লিখতে পারি না আবার ইংরেজিতে চালান বা বিল তৈরি করবো কিভাবে? এসকল কথা শোনার পর বা দোকানদারে কথা অনুযায়ী প্রমাণিত।