মাত্র এগারো মাসে পৌর প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেই যশোরের বাঘারপাড়া পৌরসভার চিত্র পাল্টে দিয়েছে মো: ইউসুফ মিয়া। এ স্বল্প সময়ে পৌরসভায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখায় হাসি ফুটেছে পৌরবাসীর এবং কর্মচারীদের মুখে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
গত বছরের ৫ জুলাই ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বাঘারপাড়া পৌরসভার মেয়রও পালিয়ে যায়। এরপর সরকারের পরিপত্র অনুযায়ি গত বছরের ১৮ জুলাই দায়িত্ব পান সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: ইউসুফ মিয়া। দায়িত্ব নিয়েই তিনি পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেড় কোটি টাকার দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন পরিশোধ করে। একই সাথে তাদের জিএফ ও গ্র্যচুইটি ফান্ড চালু করে। এতে কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়।
বিগত অর্থ বছরে হাট-বাজারের ইজারার টাকা ঠিকাদারদের কাছ থেকে আদায় করেন মাত্র ১ সপ্তাহ সময় নিয়ে যা সাবেক মেয়র কামরুজ্জামান বাচ্চুর কাছের লোক হওয়ায় সেগুলো আদায় হয়নি।
পৌর প্রশাসক ইউসুফ মিয়া পৌরসভার টেন্ডার সবার জন্য উন্মুক্ত করে। বিগত সময়ে শুধুমাত্র মেয়রের পছন্দের কয়েকজন ঠিকাদার পৌরসভার কাজ পেতো। এছাড়াও তিনি, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন আবেদন বৃদ্ধিতে একাধিকবার মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও পৌর কর আদায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করে। পৌর সেবা সহজীকরন করতে সিটিজেন চার্টার অনুযায়ী বাধ্য করেন। এছাড়ও প্রতিটি ওয়ার্ডে নাগরিকদের জন্য অভিযোগ বক্স স্থাপন করে সে সমস্যাগুলোরও সমাধান করে।
চলতি বাজেটে নাগরিকদের সুবিধার্তে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পর্যাপ্ত সড়ক বাতির ব্যবস্থা ও পৌরসভার গুরুত্বপূর্ন স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রেখেছে।
উপজেলার ভূমি অফিসে মো: ইউসুফ মিয়া সহকারী কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়ে প্রথমেই দালালদের দৌরাত্ম বন্ধ করেছে। এছাড়া নাম জারির আবেদন মাত্র ১৫ দিনে সমাধান করে উপজেলাবাসীর প্রশংসা পেয়েছে। ভূমি অফিসে ঘুষ বন্ধ ছাড়াও স্টাফদের মধ্যে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনেছে চট্রগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার এ কৃতি সন্তান। তিনি চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মার্কেটিং-এ এমবিএ সমাপ্ত করে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন।