মোঃ মাসুম বিল্লাহ
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
কিছু ঘটনা শুধু ঘটনা নয় তা একটা কৌশল আরো স্পষ্ট করলে হবে ফাঁদ। আদ দ্বীন হাসপাতাল বন্ধের ঘটনায় সরকারকে সাদুবাদ জানাই। এরকম সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাসে কি এই প্রথম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার জন্য মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো? যদি তা না হয় তবে কেন?
খুলনা সিটি হাসপাতালে ১১ জুন, ২০২৬ এ আগুন লাগে, একই দিন খুলনা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে এসে এক মহিলা মরে মেঝতে পড়ে থাকে। তাহলে কি তাদের নিবন্ধন বাতিল করবেন? আজকে আগুন লেগেছে কালকে হয়তো আরো ভয়াবহ কিছু ঘটবে তাই এখনি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত নয় কি? আচ্ছা দেশে সরকারি হাসপাতাল কতটি? সেখানে কি অভিজাত বা দেশের মুন্ত্রী এমপিরা চিকিৎসা নেয়? নেয় হয়তো। তারাতো বিশেষ শ্রেণিভুক্ত, তাই আমরা ঘুমালে হয়তো তখন তারা চিকিৎসা নেয়। আপনি বুকে হাত দিয়ে বলেনতো, এদেশের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসায় আপনি কি সন্তুষ্ট? আপনার উত্তর না হবে। কখনো কি ভেবেছেন কেন বেহাল দশা সরকারী হাসপাতালের? দেশে এতো বেসরকারি হাসপাতালের কি দরকার? তারাতো সেবার বিনিময়ে ব্যবসা করছে। চিকিৎসা তো ব্যবসা হতে পারে না। রোগী কি কোন পণ্য? তাহলে সরকার কেন তাদের পরমিশন দেন? এখানে সরকারের অপারোগতা ও সীমাবদ্ধতা আছে নিশ্চয়ই? খাদ্যে ভেজাল, ঔষুধে ভেজাল আর এই ভেজাল দমন অভিযান পরিচালনা করে তাদের জরিমানা করেন। তাই বলে তো কখনো তা বন্ধ করে দেয় না। তবে কেন আদ দ্বীনের বেলা এমন?
আদদ্বীন হাসপাতাল শুধু একটা চিকিৎসালয় না বরং একটা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশর কোন হাসপাতালে এতসুন্দর পরিবেশ আছে? এখানে ৪০০/৫০০ শিক্ষার্থী মেডিকেলে এমবিবিএস কোর্চে পড়ালেখা করে। এখানে নার্সিং কোর্স চালু রয়েছে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। আপনি কি এই মানুষগুলো দায় নেবেন? আপনি কেন এই মানুষগুলোর সম্ভাবনাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন? একবার কি ভেবেছেন এই মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ কি হবে?
আচ্ছা আপনি হয়তো আপনার কাছে ভালো। তাই বলে কি সকলে আপনাকে ভালো বলে। আপনার সাথে কোন তিক্ত ঘটনা ঘটতে পারে এটা দিয়ে সব কিছু জাজ করা কি আপনার দীনতা নয়? এতো রোগীর মধ্যে হয়তো ২০ শতাংশের সাথে খারাপ কিছু হতে পারে যদিও তা কাম্য নয়। তাই বলে আশি ভাগ সাদাকে চোখে কালো কাপড় দিয়ে বিচার করবেন? আপনি কেন এক চোখ দিয়ে বিচার করছেন। নিজের সাথে ঘটা বিষয়টি নিয়ে না ভেবে এই হাজার হাজার লোকের দায় ভার নিতে কি প্রস্তুত? হামে, করোনায়া কত শত শত লোক মারা গেল, কই কোন হাসপাতালতো বন্ধ হলো না। মাইলস্টোনে বিমান পড়লো বিমান তো বন্ধ হলো না, লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কতবার ডুবলো লঞ্চতো বন্ধ হলো না, বাস ট্রাক কত লোকের প্রাণ নিলো বাস ট্রাকতো বন্দ হলো না, ট্রেন লাইন চ্যুত হলো ট্রেনতো বন্দ হলো না, সচিবালয়ে আগুন লাগলো সচিবালয়তো বন্ধ হলো না; কিছুই যেখানে বন্ধ হয় না সেখানে আদ দ্বীন কেন? কারণ এখানের পরিবেশ সুন্দর, সেবা সহজলভ্য, এখানে বেশিরভাগ ধর্মপ্রাণ, চিকিৎসক কর্মচারী সকলের ব্যবহার অন্যের তুলনায় ভালো। স্বল্প মূল্যে সেবা দিচ্ছে যা অন্যের জন্য আর্থিক লস হচ্ছে তাই?
বিগত দিনে ভুল চিকিৎসায় বহু রোগী মারা যাওয়া রেকর্ড আছে। অনেক সময় সেই সব হাসপাতালে উত্তেজিত জনতা ভাঙচুর করে। কিন্তু সেগুলো যখন বন্ধ হলো না তখন এটা বন্ধ করা কি অবিচার নয়? বর্তমান যারা চিকিৎসা নিচ্ছে তাদের ভোগান্তির কথা কি ভেবেছেন? আচ্ছা মাথায় ব্যথা হলে কি কেউ মাথা কেটে সমাধান করে? নাকি উপযুক্ত কারণ নির্ণয় করে তা সামাধান করা শ্রেয়?