প্রিন্স মন্ডল অলিফ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট), সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
মোংলা বন্দরে গাড়ির যন্ত্রাংশ ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা চারটি বিলাসবহুল গাড়ি জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। শুল্ক ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে গাড়িগুলোকে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত করে যন্ত্রাংশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
কাস্টমস সূত্র জানায়, গত ১৯ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানটির খালাস স্থগিত করা হয়। পরে শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় ঘোষণার সঙ্গে পণ্যের প্রকৃত অবস্থার ব্যাপক পার্থক্য ধরা পড়ে। জাপানের মাহি কার পোর্ট থেকে ঢাকার গেন্ডারিয়াভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ক্রাউন অটো মোবাইল সার্ভিসেস এই চালানটি আমদানি করে।
বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-৬৯০৪ অনুযায়ী, ১৬৪টি প্যাকেজে ১৪ ধরনের পণ্যের ঘোষণা ছিল। এসব পণ্যের ইনভয়েস মূল্য দেখানো হয় ৭ হাজার ৯৩৫ মার্কিন ডলার। তবে কায়িক পরীক্ষায় চারটি বিলাসবহুল গাড়ির বিভিন্ন অংশ পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে, গাড়িগুলো এমনভাবে কাটা হয়েছে যাতে পুনরায় জোড়া লাগালে মূল কাঠামো ও বৈশিষ্ট্য ফিরে আসে।
কারিগরি পরীক্ষায় বিআরটিএ ও খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশেষজ্ঞরা সহায়তা করেন। পরীক্ষায় গাড়িগুলোর বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ ও সংবেদকসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ অক্ষত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। জব্দ করা গাড়িগুলোর মধ্যে রয়েছে রেঞ্জ রোভার ভোগ, বিএমডাব্লিউ ৬৫০ আই, লেক্সাস এলএক্স৫৭০ ও টয়োটা ক্রাউন অ্যাথলেট।
কাস্টমসের হিসাবে, আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মাত্র ৬ লাখ ১০ হাজার ৩০ টাকা শুল্ক-কর পরিশোধের চেষ্টা করেছিল। বিপরীতে জব্দ গাড়িগুলোর সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৪ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৭০ লাখ টাকার বেশি। পূর্ণাঙ্গ গাড়ি হিসেবে শুল্কায়ন করা হলে কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ঘটনায় সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসটি ইন্টারন্যাশনালের ভূমিকা তদন্তের পাশাপাশি আমদানিকারকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। গাড়িগুলোর মূল্য, ইঞ্জিনের ক্ষমতা ও বয়স বিবেচনায় চূড়ান্ত শুল্ক-কর নির্ধারণ করা হচ্ছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, খণ্ডিত অবস্থায় কোনো পণ্য আমদানি করা হলেও তাতে মূল পণ্যের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য থাকলে সেটিকে সম্পূর্ণ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করার বিধান রয়েছে।