মনির আহমদ আজাদ, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১টা ৫৬ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে আটটিতেই নির্বাচিত চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান দিয়ে চলছে প্রশাসনিক কার্যক্রম। দীর্ঘ সময় ধরে এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থায় পরিষদ পরিচালিত হওয়ায় নাগরিক সেবা প্রদান, নথিপত্র সংরক্ষণ ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও জবাবদিহির অভাব দেখা দিয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে আমিরাবাদ, চুনতি, বড়হাতিয়া, কলাউজান, লোহাগাড়া সদর, পুটিবিলা, চরম্বা ও পদুয়া ইউনিয়ন পরিষদে এই অচলাবস্থা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানদের প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার অভাব এবং স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপের কারণে জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদ ও গ্রাম আদালতের কার্যক্রমে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
চরম্বা ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ারিশ সনদসংক্রান্ত নথিতে গুরুতর অসঙ্গতির তথ্য পাওয়া গেছে। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের মূল রেজিস্টারে একটি ওয়ারিশ সনদের রেকর্ড থাকলেও আদালতে দাখিল করা একটি প্রত্যয়নপত্রে একই ব্যক্তির নামে পাঁচটি ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার তথ্য উল্লেখ রয়েছে। বাকি চারটি সনদের কোনো দাপ্তরিক নথি বা অনুলিপি পরিষদের কাছে নেই। এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে আদালত ১২ জনের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেছেন বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু চরম্বা নয়, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানরা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব দেখা দিয়েছে। এছাড়া দাপ্তরিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
চরম্বা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিয়া বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের নথিপত্র সংরক্ষণের দায়িত্ব সচিবের। কোনো নথি গায়েব হওয়ার বিষয়ে আমি অবগত নই।”
সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, প্যানেল চেয়ারম্যানের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার আইনি সুযোগ থাকলেও তা জবাবদিহির বাইরে নয়। প্রশাসনিক তদারকি, আর্থিক নিরীক্ষা এবং নথিপত্র সংরক্ষণ কঠোর না করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।