1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
রোহিনীর জীবনের অবলম্বন এক গরু, এক ছাগল আর একমুঠো ঘাস! - bdtelegraph24.com
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৯৯তম অস্কারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে মেজবাউর রহমান সুমনের ‘রইদ’ মহিপুরে ১ কেজি ৯০০ গ্রামের ইলিশ বিক্রি হলো ৬ হাজার ৬৫০ টাকায় ভারত ও নেপালে বন্যা ও ভূমিধস: নিহত ৭০ বাংলার জমিনে কাউকে সন্ত্রাস করতে দেয়া যাবেনা- স্বাস্থ্যমন্ত্রী পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা বাতিল করেনি সৌদি আরব: মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাবনায় ৩৮১ বস্তা সার জব্দ, দুই ব্যবসায়ীকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা ভারতে অন্তঃসত্ত্বা নারীকে ২৭৫ কিমি দূরে নিয়ে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ৪ হরমুজ প্রণালিতে ১৯ জাহাজে ইরানের হামলা, মার্কিন ডুবোযান আটক অভয়নগরে সন্তানসহ নিখোঁজ গৃহবধূর সন্ধান মেলেনি ভাতাভোগী ও সঞ্জীবন প্রকল্পের আনসার ও ভিডিপি সদস্য-সদস্যাদের মাঝে ফলজ ও ঔষধি গাছের চাঁরা বিতরণ

রোহিনীর জীবনের অবলম্বন এক গরু, এক ছাগল আর একমুঠো ঘাস!

  • সর্বশেষ আপডেট : শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৪৩ জন খবরটি পড়েছেন

সাকিব আহসান
প্রতিনিধি,পীরগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও।

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

জীবন কখনো কখনো মানুষের সামনে এমন বাস্তবতা দাঁড় করায়, যেখানে স্বপ্নের চেয়ে বেঁচে থাকাটাই বড় হয়ে ওঠে। অভাবের সংসারে প্রতিদিনের আয়-রোজগারের পথ খুঁজে নিতে হয় নিজের মতো করে। তেমনই এক সংগ্রামী নারী রোহিনী রাণী। স্বামীহীন এই নারী জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন ঘাস কাটেন। সেই ঘাসের একটি অংশ রেখে দেন নিজের গরু ও ছাগলের জন্য, আর বাকি অংশ নিয়ে হাজির হন বাজারে। বিক্রি করা ঘাসের সামান্য আয় দিয়েই চলে তাঁর নিত্যদিনের প্রয়োজন।

রোহিনী রাণীর সংসারে রয়েছে দুটি ছেলে সন্তান। ছেলেরা এখন নিজেদের পরিবার নিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ করেন। সন্তানরা আলাদা সংসারে ব্যস্ত থাকলেও মায়ের জীবনের কঠিন বাস্তবতা পুরোপুরি দূর হয়নি। বয়স ও পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রোহিনী নিজেকেই নিজের অবলম্বন করে নিয়েছেন। তাঁর সবচেয়ে বড় সম্বল এখন একটি গরু ও একটি ছাগল।

প্রতিদিন ভোর কিংবা সকাল হলেই হাতে কাস্তে নিয়ে ঘাসের সন্ধানে বের হন রোহিনী। মাঠের আইল, রাস্তার ধারের জমি কিংবা যেখানে গবাদিপশুর উপযোগী ঘাস পাওয়া যায়, সেখান থেকেই ঘাস সংগ্রহ করেন তিনি। মাথায় বা কাঁধে ঘাসের বোঝা নিয়ে ফিরে আসেন বাড়িতে। প্রথমে নিজের গরু ও ছাগলের জন্য প্রয়োজনীয় ঘাস আলাদা করে রাখেন। এরপর অবশিষ্ট ঘাস নিয়ে বাজারে বসেন বিক্রির জন্য।
রোহিনীর কাছে এই ঘাস শুধু ঘাস নয় এটাই তাঁর ছোট্ট অর্থনীতির চাকা। গরু-ছাগল দুটিকে বাঁচিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে সেগুলোই তাঁর জন্য কিছুটা আর্থিক নিরাপত্তার উৎস হতে পারে। আবার বাড়তি ঘাস বিক্রি করে পাওয়া অর্থে চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার সুযোগ হয়।

রোহিনী রাণী বলেন, “স্বামী নেই, তাই নিজের সংসারের দায়িত্ব নিজেকেই সামলাতে হয়। ছেলেরা তাদের পরিবার নিয়ে পোশাক কারখানায় কাজ করে। তারা যতটুকু পারে, ততটুকু সহযোগিতা করে। কিন্তু সবসময় তো তাদের ওপর নির্ভর করে থাকা যায় না। তাই নিজের মতো করে কাজ করি।”
তিনি আরও বলেন, “একটি গরু আর একটি ছাগলই এখন আমার সম্বল। তাদের জন্য ঘাস কাটি। যতটুকু দরকার রেখে দিই, আর বেশি হলে বাজারে বিক্রি করি। ঘাস বিক্রি করে যে টাকা পাই, তা দিয়েই ছোটখাটো প্রয়োজন মেটাই। কষ্ট আছে, কিন্তু কাজ করতে পারলে মনটা ভালো থাকে।”

রোহিনীর এই জীবনকথা গ্রামীণ নারীর আত্মনির্ভরতার এক নীরব ছবি। বড় কোনো পুঁজি নেই, নেই দোকান কিংবা জমিজমার বড় পরিসর। আছে শুধু শ্রম দেওয়ার সামর্থ্য, একটি গরু, একটি ছাগল এবং প্রতিদিন ঘাস কাটার অদম্য ইচ্ছা। তাঁর জীবনের হিসাব হয়তো খুব ছোট, কিন্তু সেই ছোট হিসাবের মধ্যেই লুকিয়ে আছে বেঁচে থাকার বড় দর্শন।
সমাজের চোখে ঘাস বিক্রি করা হয়তো সাধারণ একটি কাজ। কিন্তু রোহিনীর কাছে প্রতিটি ঘাসের আঁটি তাঁর শ্রমের মূল্য, আত্মমর্যাদার প্রতীক। সন্তানদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের প্রয়োজন নিজে মেটানোর এই চেষ্টা তাঁকে আলাদা করে চেনায়।
অভাব তাঁর জীবনে নিত্যসঙ্গী হলেও পরিশ্রম থেকে তিনি পিছিয়ে যাননি। প্রতিদিন ঘাস কাটতে বের হওয়া, গবাদিপশুর খাবার জোগাড় করা এবং উদ্বৃত্ত ঘাস বাজারে বিক্রি করা এই ধারাবাহিক শ্রমই তাঁর জীবনের গল্প। এক গরু, এক ছাগল আর একমুঠো ঘাসকে অবলম্বন করে রোহিনী রাণী প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার পথ খুঁজে চলেছেন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar