নিজস্ব প্রতিবেদক
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ২০২৬, সন্ধ্যা ৭টা ১৮ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সমাজ ও দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে নিজ কর্মের মাধ্যমে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করা তিন অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, এ ধরনের উদ্যোগ অন্যদেরও ভালো কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।
সাক্ষাৎ করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন বুয়েট থেকে পাস করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লা শারাফ, দুই হাত না থাকা সত্ত্বেও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা মো. আলতাফ হোসেন এবং নিজ উদ্যোগে হাজার হাজার গাছ লাগানো রেজাউল কিবরিয়া বাবুল। প্রধানমন্ত্রী তাদের জীবনসংগ্রাম ও সমাজের কল্যাণে পরিচালিত কার্যক্রমের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ গঠনে আপনাদের মতো মানুষের অনেক প্রয়োজন। আপনাদের মতো সবাই এগিয়ে এলে দেশ গঠন সহজ হবে।
নায়লা শারাফ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে পড়াশোনা শেষ করে ৩৪তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হন। তবে সরকারি চাকরিতে যোগ না দিয়ে তিনি শিশুদের শিক্ষাদানের পথ বেছে নেন। গত সাত বছর ধরে নেত্রকোনার পাঁচআননপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন তিনি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাঠদান সহজ করতে তিনি নিজেই শিক্ষা উপকরণ ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করেন।
নরসিংদীর মো. আলতাফ হোসেন জন্ম থেকেই দুই হাতহীন। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে পা দিয়ে লেখা শিখে ২০০৭ সালে তিনি পাঁচদোনায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন স্কুল’। নিজের সঞ্চয় ও পৈতৃক জমি বিক্রির অর্থে গড়ে তোলা বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রধানমন্ত্রী তার কথা শুনে নতুন স্কুলভবন নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।
ভোলার চরফ্যাশনের রেজাউল কিবরিয়া বাবুল প্রায় তিন দশক ধরে ইমামতির পাশাপাশি নিজ অর্থ ও শ্রমে সড়কের পাশে হাজার হাজার গাছ লাগিয়েছেন। পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি গড়ে তুলে তিনি চারা উৎপাদন ও রোপণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার লাগানো অধিকাংশ গাছ এখন পথচারীদের ছায়া দিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই অনুপ্রেরণাদায়ী ব্যক্তিরা। প্রধানমন্ত্রী তাদের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তা অব্যাহত রাখতে উৎসাহ দেন।