মামুন রণবীর, নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
নেত্রকোণার দুর্গাপুরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক আলিফ ফকিরের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোণা ১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) ডেপুটি স্পিকারের পক্ষ থেকে আলিফ ফকিরের পরিবারকে এক লক্ষ টাকা আর্থিক সহযোগিতা ও প্রয়োজনীয় পোশাক সামগ্রী প্রদান করা হয়।
দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ এই সহযোগিতা শোকস্তব্ধ পরিবারটির হাতে তুলে দেন।
উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ জানান, ভবিষ্যতেও ডেপুটি স্পিকারের পক্ষ থেকে পরিবারটির প্রতি আন্তরিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এসময় তারা এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দুর্গাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভূঁইয়া, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ শহীদ খান, সহ সভাপতি এম এ জিন্নাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দিন মাস্টার সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে পৌরসভার তেলুঞ্জিয়া এলাকায় সাংবাদিক আলিফ ফকিরকে ৬টি গুলি করে মেরে ফেলে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় শুক্রবার রাতে নিহতের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা অজ্ঞাত ৮ জনকে আসামী করে দুর্গাপুর থানায় মামলা করে।
বেসরকারি আইপি টিভি ‘রূপসী বাংলার’ নেত্রকোণা জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। ওই পেজে তিনি মাদক কারবার ও চোরাচালান সহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে নিয়মিত লেখালেখি করতেন। তার পৈতৃক বাড়ি কলমাকান্দার পোগলা এলাকায়। তিনি দুর্গাপুরের বিরিশিরি এলাকার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির তেলুঞ্জিয়া এলাকার একটি দোকানে তার রেখে যাওয়া মুঠোফোন নিতে যান। এসময় দুই যুবক তার পিছু নেয়। এর পরপরই কয়েকটি গুলির শব্দ শোনা যায়। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করলেও কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সাংবাদিক আলিফ ফকিরের মৃত্যুতে দুর্গাপুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সাংবাদিক, সুধীজন সহ সর্বস্তরের মানুষ খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।