নিউজ ডেস্ক
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর ২০২৬), দুপুর ১২টা
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় শূন্য পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে পরপর দুবার বা তার বেশি শূন্য পাস করা এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের এমপিও বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এছাড়া অপরিকল্পিত ও অপ্রয়োজনীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আশপাশের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত বা পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা করছে সরকার।
গত শনিবার প্রকাশিত এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ফলাফলের এই ভরাডুবির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বেড়েছে শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা। এবার ২৯৩টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যা গতবার ছিল ২০২টি। এর মধ্যে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই কাগুজে এবং পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংকটে ভুগছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, অনেক এলাকায় প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। মূলত এমপিও পাওয়ার আশায় স্থানীয়ভাবে এসব প্রতিষ্ঠান করা হয়, যেখানে পড়াশোনার পরিবেশ নেই। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
নওগাঁর পত্নীতলা সরকারি টেকনিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হামিদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বেশির ভাগই অনিয়মিত। তারা পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করে, তাদের ধরে ধরে এনে ক্লাস করাতে হয়। এ কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে।”
গাইবান্ধার ফকিরহাট মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবার রহমান রশিদ জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি। বিনা বেতনে পড়াতে গিয়ে অনেক শিক্ষক আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন, যার প্রভাব পড়েছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে।
একীভূতকরণের পরিকল্পনা
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, “দেশের বিভিন্ন এলাকায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনেক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় সেগুলোকে কাছাকাছি অবস্থিত অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। তবে এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা নেই।”
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, “শূন্য পাস করা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে। বিগত ৫ বছরের শিক্ষার্থী, পাসের হার ও শিক্ষকদের তথ্য পর্যালোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে।”