মাদারীপুর প্রতিনিধি।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ভালবাসা মানে না কোন জাতি ভেদাভেদ। মানে না স্বদেশী-ভিনদেশী। তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন রোমানিয়ার এক নারী ও মাদারীপুরের এক যুবকের ভালবাসা। রোমানীয়ার ওই নারীকে ভালবেসে বিয়ে করে দীর্ঘ প্রায় ৯ বছর সংসার করে মাদারীপুরের শিবচরে এনে ২ ছেলের খাৎনা দিয়েছেন ইব্রাহিম। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে সুন্নত-এ খাৎনা অনুষ্ঠানে ভিনদেশী ওই নারীর মেহমানদারীতে মুগ্ধ এলাকাবাসী। ইব্রাহিমের স্বজনদেরও আপন করে নিয়েছেন রোমানীয়া প্রবাসী মারিয়ানা মিহায়ল।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার শিবচরের দ্বিতীয়াখন্ড ইউনিয়নের নিয়ামত কান্দি গ্রামের আদম আলী মোল্লার ছেলে ইব্রাহিম মোল্লা ২০০০ সালে সৌদি আরব যান। সেখান থেকে ২০০৫ সালে ইব্রাহিম গ্রীসে পৌছেন। গ্রীসে পৌছে ইব্রাহিম গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে ইব্রাহিমের ব্যবসার প্রসার ঘটতে শুরু করলে গ্রীসের পাশাপাশি রোমানিয়াতেও গার্মেন্টস কারখানা স্থাপন করেন ইব্রাহিম। কাজের সুবাদে প্রায়ই ইব্রাহিম রোমানিয়াতে যাতায়াত করতেন।
সেখানে ২০১৩ সালে এক বান্ধবীর সাথে বেড়াতে এসে ইব্রাহিমের সাথে পরিচয় হয় রোমানিয়ার কালিন আওরেল এর মেয়ে মারিয়ানা মিহায়লের সাথে। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। ওই বছরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর মারিয়ানা মিহায়ল নিজের ধর্ম ও নাম পরিবর্তন করে মারিয়া মোল্লা রাখেন। দাম্পত্য জীবনে তারা দুই ছেলে ও এক মেয়ের পিতা মাতা হন। বর্তমানে বড় ছেলে ইউমতিন ইছহাক মোল্লার বয়স ৭ বছর, মেঝো ছেলে আইয়ান ইব্রাহিমের বয়স ৬ বছর ও একমাত্র মেয়ে ইয়াজমিনা ফাতেমার বয়স ৪ বছর। বিদেশের মাটিতে তিন সন্তানের পিতা হলেও প্রিয় মাতৃভূমির প্রতি টান কমেনি ইব্রাহিমের। গত প্রায় এক মাস আগে ইব্রাহিম তার স্ত্রী মারিয়ানা মিহায়ল ও তিন সন্তানকে নিয়ে মাদারীপুরের শিবচরের নিয়ামত কান্দি গ্রামের বাড়িতে আসেন। ইব্রাহিমের পরিবারের সদস্যরাও ভিনদেশী মারিয়ানা মিহায়লকে যেমন আপন করে নিয়েছেন, তেমনি মারিয়ানা মিহায়লও ইব্রাহিমের পরিবারের সবাইকে নিজের করে নিয়েছেন। দেশে এসেই ইব্রাহিম তার দুই ছেলে ইউমতিন ইছহাক মোল্লা ও আইয়ান ইব্রাহিমের সুন্নত-এ খাৎনা করান। সুন্নত-এ খাৎনা উপলক্ষে শুক্রবার আত্মীয় স্বজন ও এলাকাবাসীদের দাওয়াত করে খানা পিনার আয়োজন করেন ইব্রাহিম। অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের মেহমানদারী করেন মারিয়ানা মিহায়ল ও ইব্রাহিম।
ইব্রাহিমের ভাতিজা সরোয়ার মোল্লা বলেন, “আমার চাচা ভালবেসে রোমানিয়ার নাগরিক এক নারীকে বিয়ে করেছেন। বিয়ের পর থেকে আমার চাচী মোবাইলে ভিডিও কলে আমাদের পরিবারের সকলের সাথেই নিয়মিত কথা বলেছেন। কিছুদিন হলো আমার চাচা পরিবারসহ বাড়িতে এসেছেন। আমাদের পরিবারের সকলের সাথেই চাচীর খুব ভাল সম্পর্ক হয়েছে।”
ইব্রাহিমের এক আত্মীয় রেবা আক্তার বলেন, তিনি ভিনদেশী হলেও আমাদের সংস্কৃতির সাথে মিশে গেছেন। আমাদের সবাইকে আপন করে নিয়েছেন। আমাদের দেশের সুর্যোদয় আর সুর্যাস্ত দেখতে তার খুব ভাল লাগে। এখানের প্রকৃতির অপরুপে সে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন।
মারিয়ানা মিহায়ল আধো আধো বাংলায় বলেন, “ইব্রাহিম খুব ভাল মানুষ। আমাকে অনেক ভালবাসে। বাংলাদেশের মানুষও অনেক ভালো। এখানের সবাই আমাকে অনেক ভালবাসে। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও প্রকৃতি খুব সুন্দর।”
ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, “কাজের সুবাদে রোমানিয়ায় গেলে সেখানে মারিয়ানা মিহায়লের সাথে আমার পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রেম। তারপর মারিয়ানা মিহায়ল ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নিজের নাম পরিবর্তন করে মারিয়া মোল্লা হয়ে আমার সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়। সেখানেই আমার তিন সন্তানের জন্ম হয়েছে। দীর্ঘ দিন পর দেশে এসেছি। পরিবারের সবাইকে নিয়ে দুই ছেলের সুন্নত-এ খাৎনা করেছি। মারিয়া আমার পরিবারের সাথে মিশে গেছে। আর আমার পরিবারও মারিয়াকে আপন করে নিয়েছে। আমরা পরিবারের সবাইকে নিয়ে সুখেই আছি।”