বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক।।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
‘আমার সোনা আর স্কুলে যাবে না রে…। স্কুল থেকে ফিরে এসে মা বলে আর ডাকবে না রে…। ওরে আল্লা রে…তুমি আমার সন্তানরে আমার বুকে ফিরিয়ে দেও রে…। আল্লা আমি কি পাপ করছিলাম! আমার বাচ্চা দুটো মরে (বিদ্যুৎস্পৃষ্টে) গেল। আমি কি নিয়ে বাঁচবো, আমার সব শেষ হয়ে গেল রে…। ওদের জায়গায় আমারে নিতে পারলে না কেন রে…!’
বারবার মুর্ছা যেতে যেতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন যশোরের খাজুরায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত আকাশ ও সামিরার মা সেফালি খাতুন।
শুক্রবার (১৯ আগস্ট) স্থানীয় রায়পুর ইউনিয়নের ভদ্রডাঙ্গা গ্রামে ছব্বারের মোড়ে তাদের নির্মাণাধীন বাড়ির ছাদে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, কবির হোসেন গ্রামে ছব্বারের মোড়ে একটি বাড়ি নির্মাণ করছেন। গত বুধবার সপরিবারে গ্রামের বাড়িতে আসেন তিনি। শুক্রবার সকাল ১০টায় আকাশ ও সামিরা দুই ভাইবোন নির্মাণাধীন ওই বাড়ির ছাদে উঠে খেলা করছিল। ছাদে বাড়ির নিচের একটি দোকানের সাইনেবোর্ডে বিদ্যুতের লাইন দেয়া ছিল। বিদ্যুতের সেই তারে আকাশ হাত দিলে তাকে বাঁচাতে গেলে সামিরাও বিদ্যুতায়িত হয়। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত আবু হুসাইন আকাশ (১২) ও জান্নাতুল নাঈম সামিরা (০৫)-এর পিতা ওই গ্রামের কবির হোসেন। তিনি যশোর সেনানিবাসে চাকরি করেন। আকাশ যশোর জেলা স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
এদিকে, শিশু দুটির মৃত্যুতে ভদ্রডাঙ্গা এখন শোকের গ্রামে পরিণত হয়েছে। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না গ্রামের মানুষ। সন্তানহারা পিতা-মাতাসহ স্বজনদের গগণবিদারী আর্তনাতে এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। এদিন বিকেল ৪টার দিকে হাসপাতাল থেকে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সটি ভদ্রডাঙ্গায় পৌঁছায়। এর আগে দুপুর থেকেই প্রতিবেশী ও গ্রামের লোকজন আকাশ ও সামিরার মরদেহ এক নজর দেখার জন্য বাড়িতে ভিড় জমায়।
