বাঘারপাড়া প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যশোরের বাঘারপাড়ায় শীতকালীন সবজি শিমের বাম্পার ফলনে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে এই উপজেলার কৃষকদের। ভালো দাম ও ফলন পেয়ে পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
শিমের আবাদ বিষয়ে কথা হয় বেশ কয়েকজন চাষীর সাথে। এমনই একজন চাষী মোঃ মোশারফ আলী মোল্যা । তিনি যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নের খানপুর গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলী মোল্যার ছেলে। ভ্যান চালানোর পাশাপাশি তিনি সারাবছরই মৌসুমভেদে বিভিন্ন কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
মোশারফ আলী মোল্যা আমাদের নতুন সময়কে বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ, বাবার সম্পত্তি বলতে বসতভিটা ছাড়া আর তেমন কিছুই পাইনি। চার হাত-পায়ে পরিশ্রমই আমাদের ভাগ্য। বাড়ির সামনে এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে ১০ কাঠা জমি বার্ষিক চুক্তিতে লিজ নিই। তিনি বলেন, ‘কৃষির আয়ের ওপর নির্ভর করে বাইরেও কিছু জমি করেছি। পাশাপাশি কারো জমি বর্গা আবার কারো জমি মেয়াদী চুক্তিতে নিয়ে চাষাবাদ করছি। সেখানে শীতকালীন শাক-সবজির ভালো ফলন হয়েছে। শুধু শীতকালেই নয়, প্রতিটি মৌসুমভিত্তিক ফসল চাষ করা হয়।’ গত সিত্রাং ঝড়ে আমার পেঁপে বাগান সম্পূর্ণ বিনষ্ট হয়ে যায়। এরপর তিনি চাষ করেন শীম । তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর প্রতি সপ্তাহে ৫-৬ মণ করে শিম ( হালকা কালো জাতের ) বিক্রি করছি। প্রথমে প্রতি ৭’শ-৮’শ টাকা মণ দরে ও এখন ৫’শ-৬’শ টাকা মণ দরে বিক্রি করছি। শিম তুলে বস্তা ভরে পুলেরহাট বাজারে নিয়ে গেলে স্থানীয় ও বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যান।
পোকার আক্রমণ থেকে শিম গাছ রক্ষ্যা করতে নিজেদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন একেক জন চাষি যেন নিজেরাই ফসলের ডাক্তার, শত রোগবালাইয়ের মাঝেও থেমে নেই শিম গাছের পরিচর্যা।
সরেজমিনে দেখা যায় মাঠে ক্ষেতের পর ক্ষেত জুড়ে সবুজ পাতার মধ্যে লকলক করা শিমের শীষে বেগুনি ও সাদাটে ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে শিমের মাঁচা। এবার প্রথম দিকেই শিমের ভালো ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি কৃষক।শিম চাষে চাষিদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। শীতকালিন ফসলের মধ্যে অন্যতম প্রধান সবজি শিম ।
জানাগেছে, শিমের আবাদ করতে কৃষকরা প্রতি বছর নিজেরা শিম বীজ সংরক্ষণ করে রাখেন। শিম চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা প্রতি বছরই চাষ করে থাকেন। বর্তমানে শীতকালীন শিম বাজারে ভাল দামে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি মন শিম পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৮ শ’থেকে ১১শ টাকা দরে। প্রথমে ফলন একটু কম হলেও, পরবর্তীতে ফলন বেশি হয়। যখন ফলন বেশি হয় তখন আর আগের মতো দামও পাওয়া যায় না।
উপজেলার খানপুর গ্রামের শিম চাষি সুবোল ভদ্র বলেন, তিনি ২২ কাঠা জমিতে শিম চাষ করেছেন।প্রতি সপ্তাহে ৮ থেকে ১০ মন শিম তুলে স্থানীয় পুলেরহাট বাজারে প্রথমে ১১শ’ টাকা মন দরে পাইকারি বিক্রি করেছেন। এখন বিক্রি করছে ৪ শ’ থেকে ৮ ‘শ টাকা মন দরে।
সুবোল ভদ্র বলেন, ফলন ভালো হওয়াতে এই মৌসুমে ২২ কাঠা জমিতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। শিম বিক্রয় হবে ৮০- ৯০ হাজার টাকা । গত দুই মাসে শিম বিক্রয় হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। এই মৌসুমে সেখান থেকে ৫০ হাজার টাকা লাভ হবে।
তার পাশে ৪০ শতক জমিতে শিম চাষ করেছেন কৃষক মধুসুদ্ন ভদ্র। এবার শীতের শুরুতেই বাজারে শিম বিক্রয় শুরু করেছি। তিনি প্রতি সপ্তাহে১২-১৩ মন শিম তোলেন। প্রতিবারের চেয়ে এবার বেশি লাভবান হয়েছি। বর্তমানেও ৬’শ -৮’শ টাকা মন দরে শিম পাইকেরি বিক্রয় করছি। এতে এই মৌসুমে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা লাভবান হব।
শুধু খানপুর গ্রামের মোশারফ, সুবোল, মধুসুদ্নই নন এমনইভাবে শিম চাষ করেছেন সাধন শিকদার,তপন বিশ্বাস,অমল ভদ্র,নির্মল ভদ্র,শক্তিপদ মন্ডল প্রমুখ ।
নারিকেল বাড়িয়া উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান,কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় চাষিরা শিম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
বাঘারপাড়া উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কৃষি কর্মকর্তা রুহোল আমীন বলেন, উপজেলায় এবার ব্যাপকভাবে শিম চাষ হয়েছে। বিভিন্ন ফসল চাষে কৃষকদের নানা প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে ভালো ফসল বাজারে বিক্রয় করতে পারছেন। শিম চাষিদের পরামর্শ দিতে মাঠ ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মীরা নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।