বাঘারপাড়া প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাঘারপাড়া উপজেলায় সরিষার ব্যাপক চাষ হয়েছে। সুন্দর বীজও আসতে শুরু করেছে। এতে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা দেখছেন চাষিরা। লাভের আশায় তাদের মুখে এখন হাসি। যেদিকে চোখ যায় শুধু হলুদ আর হলুদ। মৌমাছির গুনগুন শব্দে এখন মুখরিত সরিষার মাঠগুলো।
যশোর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, জেলায় চলতি রবি ফসল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় ১৫ হাজার ৪শ’ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাঘারপাড়া উপজেলায় ৩ হাজার ৮ শ হেক্টর সরিষার চাষ করা হয়েছে। গতবছর সরিষা চাষ করা হয়েছিল ২ হাজার ৪৭০ হেক্টর।
বাঘারপাড়া উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, এবার উপজেলায় সরিষার চাষ বেড়েছে। তিনি বলেন, গত বছরের চেয়ে এবছর ১ হাজার ৩৫০ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ করা হয়েছে। গতবছর সরিষা চাষ করা হয়েছিল ২ হাজার ৪৭০ হেক্টর সেখানে এবার চাষ করা হয়েছে ৩ হাজার ৮ শ হেক্টর।
কৃষিকর্মকর্তা রুহুল আমিন আরোও জানান,সময়মতো বীজবপন,অনুকুল আবহাওয়া থাকায় এবার চাষিরা ভালোভাবে সরিষার চাষ করতে পেরেছেন, আশা করছি বাম্পার ফলন হবে। তাছাড়া ভোজ্য তেল সংকটের কথা মাথায় রেখে আমাদের ৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে লিফলেট বিতরণ ও চাষিদের সাথে উঠান বৈঠকসহ প্রচারপ্রচারণার ফলে কৃষকদের সরিষা আবাদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়। কৃষকরা তাদের অধিকাংশ জমিতে উচ্চ ফলনশীল (উফশী) বারি-১৪, বারি-৯, বিনা-৯/১০ ও স্থানীয়ভাবে বারি-৭ হাইল্যান্ড ও সম্পদ জাতের সরিষা চাষ করেছেন। তবে বীজ সংকটে অনেক কৃষক সরিষার আবাদ করতে পারেন নাই। আগামীতে সরিষার চাষ আরোও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়- ফসলের মাঠগুলো সরিষা ফুলের হলুদ রঙে অপরূপ শোভা ধারণ করেছে। মাঠে পরিচর্চার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
ইন্দ্রা গ্রামের কৃষক বাবর আলী জানান, তিনি দেড়বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত জমিতে কোনও সমস্যা দেখা যায়নি। বরং সুন্দর আর স্বাস্থ্যবান বীজের দেখা পাওয়া যাচ্ছে। এতে ভালো ফলন পেয়ে লাভবান হতে পারবেন।
উপজেলার ধালগ্রাম ইউনিয়নের আন্ধারকোঠা গ্রামের জগদীশ মন্ডল বলেন, এবার ২ বিঘা জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় বাম্পার ফলনের আশা করছেন তিনি।
এছাড়াও সরিষা চাষি একই গ্রামের স্বপন জানান,তিনি গতবারের চেয়ে এবার বেশি জমিতে চাষ করেছেন। উপজেলার ছিলুমপুর গ্রামের হারুন অর রশিদ, নারিকেলবাড়িয়ার রাজন,খানপুরের লিয়াকত আলি, ক্ষেত্রপালার জয়নাল আবেদিন জানান, অন্যান্য ফসলের তুলনায় সরিষা চাষে খরচ কম। ফলে লাভ বেশি হয়।
নারিকেল বাড়িয়া ইউনিয়নের সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল করিম জানান, উৎপাদন খরচ তুলনামূলক কম ও দাম ভালো পাওয়ায় সরিষা চাষে কৃষক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। ইতোমধ্যে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।