1. bdtelegraph24@gmail.com : বিডিটেলিগ্রাফ ডেস্ক :
  2. suma59630@gmail.com : ফাতেমা আকতার তোয়া : ফাতেমা আকতার তোয়া
  3. limonhosen529@gmail.com : Limon Hossain : Limon Hossain
  4. mirzagonj@bdtelegraph24.com : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি : মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি
  5. tarim7866@gmail.com : তারিম আহমেদ : তারিম আহমেদ
  6. wasifur716@gmail.com : Wasifur Rahaman : Wasifur Rahaman
জলরঙের সুলতান : এসএম সুলতানের জন্মশতবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা - bdtelegraph24.com
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
টাকার অভাবে ভর্তি অনিশ্চিত মেধাবী বিথীর পাশে ছাত্রদল নেতা পাবনার ফরিদপুরে দেশীয় অস্ত্র ও ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার বাঘাইছড়িতে ২ পিস্তল, গুলি ও বিপুল ভারতীয় সিগারেট উদ্ধার শেখ হাসিনার জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্তব্য, জাবি ছাত্রশক্তি নেতাকে পুলিশে সোপর্দ চুনা ম্যানগ্রোভকে (ওইসিএম) হিসেবে স্বীকৃতির উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের সম্মতি যশোরে ভেজাল শিশুখাদ্য বিক্রি: ইত্যাদি স্টোরকে ২ লাখ টাকা জরিমানা শিক্ষকরাই পারেন আলোকিত মানুষ গড়তে: এ্যাডভোকেট এ.কে.এম সেলিম রেজা এমপি রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক পেলেন এসআই অসিত কুমার বসাক সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে দিনব্যাপী প্রাথমিক চিকিৎসা কর্মশালা অনুষ্ঠিত বাজেট সংকটে ৪ বছরেও শুরু হয়নি জবির প্রধান ফটক সংস্কার কাজ

জলরঙের সুলতান : এসএম সুলতানের জন্মশতবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা

  • সর্বশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৩
  • ৩৬৮ জন খবরটি পড়েছেন

বিলাল হোসেন মাহিনী
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এক ভবঘুরে বাঙালি যুবক ঘুরে বেড়াতো কাশ্মীরের পথে-প্রান্তরে, পাহাড়ে-জঙ্গলে। সেখানকার আদিবাসীদের সঙ্গে দারুণ সখ্যতা গড়ে ওঠে তাঁর। তাদের সঙ্গেই থাকেন, খাওয়া-দাওয়া করেন, ঘুরে বেড়ান ও ছবি আঁকেন। ভারতবর্ষের গ্রাম-প্রকৃতি, গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ তাঁর ছবির বিষয়বস্তু। সেসব ছবি তিনি বিক্রি করেন যুদ্ধরত সৈনিকদের কাছে। সৈনিকেরা ছবি কেনে, দু-চার টাকা দেয়, তা দিয়েই সেই মুসাফির যুবকের খরচ চলে। এরই মধ্যে সিমলায় তাঁর ছবির প্রথম প্রদর্শনী হয়। তবু শিল্পীখ্যাতি তাঁর ভাগ্যে জোটে না। সেই ভবঘুরে শিল্পীই পরে বিশ্বব্যাপী তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তাঁকে বসানো হয় বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিত্রশিল্পীর আসনে। তিনি শেখ মোহাম্মদ সুলতান (এসএম সুলতান)। যাকে ছোট বেলায় লালমিয়া বলে ডাকা হতো। বরেণ্য এই চিত্রশিল্পী ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইল জেলার মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মেছের আলী ছিলেন রাজমিস্ত্রী। পিতার নান্দনিক সৃষ্টির ঘঁষামাজার মধ্য দিয়ে ছোট বেলার লাল মিঞার (সুলতান) চিত্রাংকনে সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ হয়।

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন
Telegraph Bangladesh WHATSAPP Channel

হোয়াটসঅ্যাপে ফলো করুন

দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।

এস এম সুলতান ছবি আঁকতেন জলরং ও তেলরঙে। কিন্তু তাঁর কাগজ আর রঙের মান ছিল খুব সাধারণ। কিছু কিছু ছবি তিনি কয়লা দিয়েও এঁকেছেন। তাই তাঁর অনেক ছবিই নষ্ট হয়ে গেছে। এ বিষয়ে সুলতান সচেতনও ছিলেন না। সুলতান শুধু শিল্পীই ছিলেন না, তিনি সংগীত ভালোবাসতেন। খুব ভালো বাঁশি বাজাতে পারতেন। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে শিল্পের বীজ ছড়িয়ে দিতে যশোরে প্রতিষ্ঠা করেন ‘একাডেমি অব ফাইন আর্টস কলেজ’। এখন সেটা ‘চারুপীঠ’ নামে পরিচিত।

ছোটবেলা থেকেই বাবাকে রাজমিস্ত্রির কাজে সহযোগিতা করার পাশাপাশি ছবি আঁকার প্রতি প্রবল ঝোঁক ছিল তাঁর। তিনি ১৯২৮ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজিয়েট স্কুলে পড়াশোনা শুরু করেন। ১৯৪১ সালের কথা। তখন সুলতানের বয়স ১০ বছর। একদিন স্কুল পরিদর্শনে আসেন ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি। সুলতান তাঁর একটা স্কেচ এঁকে তাক লাগিয়ে দেন। কিন্তু স্কুলের বাঁধাধরা নিয়ম সুলতানের ভালো লাগে না। তাই কিছুদিনের মধ্যেই লেখাপড়া ছেড়ে দেন। বাবার সঙ্গে যোগ দেন রাজমিস্ত্রির কাজে। দালান বাড়িতে বাবার আঁকা নকশা তাঁর মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে। এর মধ্যেই চলে তাঁর আঁকাআঁকি। বাবা জমিদারবাড়ির দালান তৈরি করেন। সেই দালানে মনের মাধুরী মিশিয়ে নকশা আঁকেন। বাবার সঙ্গে ছেলেও হাত লাগান। জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত বাবা-ছেলের কাজে মুগ্ধ। তিনি সুলতানের ছবি আঁকার শখের কথা জানতে পারেন। তাঁর ছবি আঁকাআঁকির কিছু নমুনাও দেখেন। দেখে মুগ্ধ হন। ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত সুলতানকে নিয়ে যান কলকাতায়। ভর্তি করিয়ে দেন কলকাতা আর্ট স্কুলে।

সেখানে ভর্তি হওয়ার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতা সুলতানের ছিল না। সেই স্কুলের পরিচালানা পর্ষদের সদস্য ছিলেন শিল্পাচার্য শাহেদ সোহরাওয়ার্দী। তিনিই বিশেষ বিবেচনায় সুলতানকে আর্ট স্কুলে ভর্তি করে নেন। জমিদার ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আরেকটা বাড়ি ছিল কলকাতায়। সেই বাড়িতেই সুলতানের থাকার ব্যবস্থা হয়। কিন্তু সুলতান বরাবরই স্বাধীনচেতা মানুষ। আর্ট স্কুলের ধরাবাঁধা নিয়ম তাঁর ভালো লাগে না। ভালো লাগে না কোলকতার বদ্ধ পরিবেশ। তিন বছর সেখানে কাটিয়ে একেবারে শেষ বছরে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে ফিরে আসেন গ্রামে।
তবে গ্রামেও বেশি দিন থাকেননি সুলতান। ১৯৪৩ সালে চলে যান কাশ্মীরে। সেখানকার প্রকৃতি ও আদিবাসীদের জীবন তাঁকে গভীরভাবে আকর্ষণ করে। সেসবই ফুটিয়ে তোলেন নিজের চিত্রকর্মে। ১৯৪৬ সালে সিমলায় হয় তাঁর চিত্রকর্মের প্রথম প্রদর্শনী। কানাডিয়ান শিল্পপ্রেমী মিসেস হাডসন সেই প্রদর্শনীর আয়োজন করেন। পরের বছর দেশ ভাগ হয়। সুলতান ফিরে আসেন গ্রামে। এরপর চলে যান তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের লাহোরে। সেখানকার এক স্কুলে আর্টের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। অনেক নামীদামি শিল্পীর সঙ্গে সুলতানের পরিচয় হয় তখন। লাহোর ও করাচিতে দুটি প্রদর্শনীও হয়। সেখান থেকেই এক শিল্প সম্মেলনে যোগ দিতে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। সেটা ১৯৫০ সালের কথা। সেখানেই একের পর এক হয় তাঁর চিত্র প্রদর্শনী নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, শিকাগো ও বোস্টনে। এরপর লন্ডনে তাঁর চিত্র প্রদর্শনী হয়। ইউরোপজুড়ে বিশটির মতো চিত্র প্রদর্শনী হয় তাঁর। পাবলো পিকাসো, সালভাদর দালির মতো বিখ্যাত চিত্রকরদের আঁকা ছবির সঙ্গে সুলতানের ছবি প্রদর্শিত হয়। কিছুটা আন্তর্জাতিক খ্যাতি জোটে সুলতানের কপালে। কিন্তু সে পর্যন্তই। বাংলাদেশের মানুষ তখনো তাঁর গুণের খবর পায়নি।

১৯৫৩ সালে ঢাকায় ফেরেন সুলতান। ঢাকায় একটা চাকরির খোঁজও করেন। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছিল না বলে ঢাকায় চাকরি মেলেনি। ফিরে যান নড়াইলে নিজের গ্রামে। নিজের এলাকায় একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করার খুব ইচ্ছা। তার জন্য ভালো একটা জায়গা চাই। সুলতান গ্রামকে, প্রকৃতিকে ভালোবাসেন। গ্রামে প্রকৃতির খুব কাছাকাছি হোক স্কুলটা, সুলতান তা-ই চাচ্ছিলেন। অনেক সন্ধান করেন। চাচুড়ী ও পুরুলিয়া গ্রামের মাঝামাঝি জায়গায় একটা ভাঙা জমিদারবাড়ির খোঁজ পান। সেটা সুলতানের পছন্দ হয়। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় প্রতিষ্ঠা করেন ‘নন্দনকানন প্রাথমিক বিদ্যালয়’ এবং ‘নন্দনকানন ফাইন আর্টস স্কুল’। পরে আর্ট স্কুলটি বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এখনো চালু আছে ‘চাচুড়ী পরুলিয়া প্রাথমিক হাইস্কুল’ নামে। আর্ট স্কুলটা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে অনেকটা অভিমান নিয়েই সুলতান চলে যান নড়াইলে। সেখানেই চলে তাঁর শিল্পচর্চা।

তাঁর ছবিতে প্রামীণ সমাজের প্রকৃতি ও কৃষকদের জীবনচিত্রই উঠে এসেছে বারবার। বাংলার মাঠ, ফসলের খেত, টলটলে নদী, দাঁড় বাওয়া মাঝি, মাছ শিকারি জেলে, গাঁয়ের বধূ এবং বলিষ্ঠ কৃষকের ছবি এঁকেছেন তিনি পরম মমতায়। কৃষকদের ছবি তিনি এঁকেছেন পেশিবহুল শক্তিশালী পুরুষের রূপে। এদেশের কৃষকরা মোটেও তাঁর ছবির মতো শক্তিমান পরুষ ছিলেন না সেকালে। কিন্তু যে কৃষকেরা আমাদের অন্ন জোগান, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি যাঁরা, তাঁদের সুলতান বলিষ্ঠ, শক্তিশালী করে আঁকতেই ভালোবাসতেন। শুধু কৃষকেরা নয়, গাঁয়ের গৃহিণীদেরও তিনি বলিষ্ঠ চেহারায় এঁকেছেন। অবশ্য দুটো নেতিবাচক ছবিও তিনি এঁকেছেন। সেই ছবি দুটো হলো হত্যাযজ্ঞ ও চর দখল। এঁকেছেন বন্যায় বিপর্যস্ত মানুষের ছবিও।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যাঁর এতগুলো চিত্র প্রদর্শনী হয়ে গেছে, ঢাকার শিল্পসমাজে তিনি অচেনাই রয়ে যান ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত। এর একটা বড় কারণ তাঁর ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগহীনতা। আসলে শহুরে জীবন কখনোই সুলতানের ভালো লাগেনি। ঢাকায় এসে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার তাগিদও তাঁর ছিল না। ১৯৭৬ সালে ঢাকার শিল্পসমাজে এস এম সুলতানের স্বীকৃতি মেলে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাঁর আঁকা ছবি নিয়ে একটা প্রদর্শনীর আয়োজন করে সে বছর। এরপর থেকেই দেশব্যাপী এই মহান শিল্পী ব্যাপক পরিচিতি পান। ১৯৮১ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ সম্মাননা প্রদান করে। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদকে ভূষিত করে। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাঁকে ‘আর্টিস্ট অব রেসিডেন্ট’ ঘোষণা করে। ১৯৯৪ সালে ঢাকার ‘গ্যালারি টোন’-এ শেষবারের মতো তাঁর চিত্র প্রদর্শনী হয়। সে বছরের ১০ অক্টোবর তিনি যশোরে মৃত্যুবরণ করেন।

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের জন্মশতবার্ষিকী আজ বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট)। এ উপলক্ষে এসএম সুলতান ফাউন্ডেশন, জেলা প্রশাসন, জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষ্যে নড়াইল জেলা প্রশাসন, সুলতান ফাউন্ডেশন, এস এম সুলতান শিশু চারু ও কারুকলা ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে। কুরআনখানি, শিল্পীর সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন, আর্ট ক্যাম্প, শিশুদের নিয়ে নৌকা ভ্রমণ, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হবে। এ কর্মসূচিতে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী উপস্থিত থাকবেন বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি। শুভজন্মদিন প্রিয় শিল্পী। শুভকামনা ও শ্রদ্ধা অফুরান।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও সংবাদ
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © 2025
Theme Customized By BreakingNews

টেলিগ্রাফ বাংলাদেশের ইউটিউব চ্যানেল

Close Welcome Bar