সাতক্ষীরার দেবহাটায় সালিশ চলার সময় ইউপি চেয়ারম্যানের লাঠিপেটায় বিচারপ্রার্থী এক বৃদ্ধ আহত হয়েছেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদে এ ঘটনা ঘটে বলে ওই বৃদ্ধের স্বজনরা জানান।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আহত বাবর আলী গাজী (৫৫) উপজেলার কাজী মহল্যা গ্রামের প্রয়াত মহিম গাজীর ছেলে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবর আলীর স্বজনরা জানান, কয়েকদিন আগে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবর আলী গাজীর বাড়িতে ঢুকে তাকে মারপিট করেন প্রতিবেশী সিরাজুলের ছেলে মাসুম বিল্লাহ (১৯)।
এ নিয়ে সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন বাবর। অভিযোগ পেয়ে বুধবার সকালে ইউনিয়ন পরিষদে নিজের অফিসে দুপক্ষকে ডেকে সালিশে বসেন সাইফুল। সালিশের একপর্যায়ে বিবাদী মাসুম ও তার বাবা সিরাজুল অভিযোগকারী বাবর আলীর বিরুদ্ধে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামকে উস্কে দেন। তখন চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম তার টেবিলের পাশ থেকে কাঠের লাঠি বের করে উপস্থিত সবার সামনে বৃদ্ধ বাবর আলীকে বেধড়ক মারপিট শুরু করেন। এতে বাবর আলী মেঝেতে লুটিয়ে পড়লে সালিশ বৈঠক পণ্ড হয়ে যায়।
পরে আহত বাবর আলীকে রিকশা ভ্যানে তুলে বাড়ি নেন তার স্বজনরা।
পরে বাবর আলীর বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হলে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আহতের শরীরে মারপিটের চিহ্ন এবং বুকে ব্যথার কথা জানিয়েছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জান্নাতুল ফেরদৌস।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ওই বৃদ্ধকে মারপিটের কথা স্বীকার করেন ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “সালিশ নিয়ে বাদী বাবর আলী বাজে মন্তব্য করেছিলেন; তাই তাকে লাঠি দিয়ে মারা হয়েছে। তবে বুকে-পিঠে নয়, তার হাত লক্ষ্য করে লাঠি দিয়ে কয়েকটি বারি দিয়েছিলাম মাত্র।”
দেবহাটা থানার ওসি শেখ মাহমুদ হোসেন বলেন, “সালিশে মারপিটের বিষয়টি শুনেছি, তবে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানায়,মাসখানেক আগে সখিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সরদার মো. আমজাদ হোসেনসহ তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে মারপিটের অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম তার লোকজনদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা চলছে। সেই মামলায় সাইফুল ইসলামসহ অন্য আসামি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।