নিজস্ব প্রতিনিধি। সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মসজিদের জন্য ফ্যান কিনতে টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বাদানুবাদের জেরে এক বৃদ্ধকে হাতুড়িপেটা করে ডান পা ভেঙে দিয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজন। ১৯শে জুন বুধবার রাত নয়টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নং সোরা দৃষ্টিনন্দন গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আহত ব্যক্তি হলেন গাবুরা ইউনিয়নে ৯নং সোরা গ্রামের মৃত মহব্বত শেখ এর ছেলে আজবাহার শেখ (৬৩)। হাতুড়ি ও শাবলের উপুর্যোপরী আঘাতে আজবাহার শেখের ডান পায়ের হাঁটু থেকে নিচের অংশের হাড় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহায়তায় পরিবারের সদস্যরা আজবাহার শেখকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে রাতেই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়।
আহতের ছেলে আব্দুল আলিম বাবু জানান বুধবার এশার নামাজ শেষে মসজিদের ফ্যান কেনার জন্য উপস্থিত মুসল্লীদের উদ্দেশ্যে তার পিতা বক্তব্য দেন। এসময় জমি-জমা নিয়ে আগে থেকে বিরোধ থাকা আব্দুল হালিম ও তার পরিবারের সদস্যরা বাক-বিতন্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে তার পিতাকে মসজিদ থেকে টেনে হিঁচড়ে পাশের বাড়িতে নিয়ে হালিম, রবিউল, আলম, ডালিম ও ইব্রাহিম শেখসহ ১২/১৩ জন লাঠিসহ শাবল ও হাতুড়ি দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেন। এসময় হামলাকারীদের পা ধরে পিতার জীবন ভিক্ষা চাওয়ায় তাকেও বেদম মারপিট করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল হালিম জানান আরও লোকজন থাকা সত্বেও আজবাহার মাতব্বরি করতে যাওয়ায় মুসল্লীরা পিটিয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্মরত শাকির হোসেন বলেন ডান পায়ের হাঁটুসহ একাধি স্থানে ভেঙে গেছে। এছাড়া মাথা পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে হাতুড়ির আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। অবস্থার অনতি হওয়ায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, এঘটনায় আহত বৃদ্ধের ছেলে মিলন শেখ বাদি হয়ে মামলা করেছে। ইতিমধ্যে মামলার এক আসামী জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।