গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিকে ঘিরে সহিংসতায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা। বুধবার (১৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সমাবেশ শেষে কেন্দ্রীয় নেতাদের বহনকারী গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এনসিপির অভিযোগ—হামলায় জড়িত ছিল আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মীরা।
ঘটনার সময় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীও উপস্থিত ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়া হয়। এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, “আমরা এখন অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল পরিস্থিতি শান্ত, অথচ তারা নিষ্ক্রিয় ছিল।”
এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে গোপালগঞ্জ পৌরপার্কে আয়োজিত এনসিপির সমাবেশে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ ওঠে। নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ককটেল বিস্ফোরণ ছাড়াও মঞ্চে থাকা সাউন্ড সিস্টেম, চেয়ার, মাইক ভাঙচুর করা হয়।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মির মো. সাজেদুর রহমান হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার পরপরই জেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে এবং সেনাবাহিনী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেয়।
সকালে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জে ইউএনও’র গাড়িবহরে হামলা ও পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। এতে পুলিশের তিন সদস্য আহত হন। এই ঘটনায় সন্দেহভাজন সাতজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী, যদিও তাদের নাম-পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গোপালগঞ্জ কোটালীপাড়া সড়ক, টেকেরহাট সড়ক ও টুঙ্গিপাড়ায় সাঁজোয়া যান (এপিসি) মোতায়েন করা হয়েছে।
‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করে এনসিপি। সংগঠনটি দাবি করেছে, তাদের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন করতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।