গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
তিন দিন কারফিউ জারি থাকার পর গোপালগঞ্জে শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ আংশিকভাবে শিথিল করা হয়েছে। ফলে শহরের সড়কে যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, মানুষজনও বের হচ্ছেন দৈনন্দিন কাজে। তবে কারফিউ শিথিল হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও রয়েছে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা।
শুক্রবার রাতেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়েছে। এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রেফতারের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
শনিবার সকালে শহরের রাস্তায় যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে সাপ্তাহিক বন্ধের কারণে বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ ছিল। খোলা ছিল শুধুমাত্র কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকান। রাস্তায় টহল দিতে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের, বিশেষ করে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে কড়া নিরাপত্তা ও ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে।
ভ্যানচালক কাদের গাজী বলেন, “গত দুই দিন কারফিউর কারণে মানুষজন ঘর থেকে বের হতে পারেনি। আজও যাত্রী তেমন নেই। কিন্তু পেটের দায়ে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছি।” একইভাবে একজন অটোরিকশা চালক বলেন, “গাড়ির ব্যাটারির চার্জ যেন না বসে, তাই বের হয়েছি, আয়-রোজগার কিছুই হচ্ছে না।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, “যারা সহিংসতায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক। কিন্তু গ্রেফতারের নামে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়।”
প্রসঙ্গত, গত ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনার পর জেলার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেদিন রাত ৮টা থেকে কারফিউ জারি করা হয়, যা ১৯ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত বলবৎ ছিল। এরপর জেলা প্রশাসনের এক ক্ষুদে বার্তায় জানানো হয়, সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল করা হবে।
তবে জেলার সামগ্রিক পরিস্থিতি ও চলমান অভিযানের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।