চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
হালকা কুয়াশা, শিশিরভেজা ঘাস আর উত্তরের হিমেল হাওয়ায় চুয়াডাঙ্গাজুড়ে শুরু হয়েছে খেজুরের রস ও গুড় সংগ্রহের প্রস্তুতি। হেমন্তের এই সময়ে খেজুরগাছ ঘিরে জীবিকা খুঁজছেন জেলার হাজারো পরিবার। এবারের মৌসুমে প্রায় ৭০ কোটি টাকার খেজুর গুড় বাণিজ্যের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চুয়াডাঙ্গায় এখন ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৬০টি খেজুরগাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ১০ থেকে ১২ কেজি গুড় উৎপাদন সম্ভব। এ মৌসুমে গুড় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ টন।
জেলার গ্রামাঞ্চলে গাছিরা এখন গাছ পরিষ্কার ও নলি লাগানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। খুরশিদ আলম জানান, তিনি ১১৫টি গাছ প্রস্তুত করেছেন; নভেম্বরের শেষ থেকেই রস সংগ্রহ শুরু হবে। একইভাবে গনি মিয়া ও আসাদুল হোসেনও জানিয়েছেন, তাঁদের গাছগুলোও রস আহরণের জন্য প্রস্তুত।
চুয়াডাঙ্গার আকন্দবাড়িয়া গ্রামের গাছি সাজ্জাদ হোসেন বলেন, জেলার নলেন গুড় ও পাটালির চাহিদা সারা দেশে ব্যাপক। প্রতি কেজি গুড় ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়।
দেশের সবচেয়ে বড় খেজুর গুড়ের হাট চুয়াডাঙ্গার সরোজগঞ্জ বাজারও নতুন মৌসুমের জন্য প্রস্তুত। গত বছর সেখানে গুড় বিক্রি হয়েছিল ২২০-২৮০ টাকা কেজি দরে, আর পাটালি ৩০০ টাকায়।
তবে কিছু গাছির চিনি মেশানোর প্রবণতায় খাঁটি গুড়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে জানান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার। তিনি বলেন, “চিনি মিশিয়ে গুড়ের ঐতিহ্য নষ্ট করা উচিত নয়। প্রয়োজনে দাম কিছুটা বাড়ানো যেতে পারে, কিন্তু ভেজাল করা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “বেশি খেজুরগাছ লাগালে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং কৃষকরা শীত মৌসুমে আয়ের সুযোগ পাবেন।”