টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
ফেনীর সোনাগাজীতে রূপালী ব্যাংকের আমির উদ্দিন মুন্সিরহাট শাখার তিন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ১৯ লাখ ৩৩ হাজার টাকা অজান্তেই সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই পরিবারের সদস্যদের এসব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকাগুলো পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ব্যাংকের অন্তত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের একাধিক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এখনো গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারেনি, যা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে।
মঙ্গলবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক ও স্বজনরা ব্যাংক শাখার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে মানববন্ধন করেন। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ যোগাযোগ করলে তাঁরা তালা খুলে নেন। ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রাহক আবুল বশরের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩৩ হাজার, তাঁর বড় ছেলে মনসুর আলমের অ্যাকাউন্ট থেকে ১৮ লাখ ৫ হাজার এবং ছোট ছেলে ইফতেখার আলমের অ্যাকাউন্ট থেকে ৯৫ হাজার টাকা বিভিন্ন ব্যাংকে ট্রান্সফার করা হয়েছে।
১২ নভেম্বর ব্যাংকের কর্মকর্তারা অস্বাভাবিক লেনদেন লক্ষ্য করলে বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে। এরপর তাঁরা হিসাবধারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আবুল বশর জানান, তিনি বা তাঁর পরিবারের কেউ এসব লেনদেন করেননি। শাখা ব্যবস্থাপক বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান এবং ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় তদন্ত টিম পাঠায়।
গ্রাহক আবুল বশর অভিযোগ করেন, “একটি নয়—আমার এবং দুই ছেলের তিনটি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। অথচ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক মাস ধরে নানা কথা বলে হয়রানি করছে। কর্মকর্তাদের যোগসাজশ ছাড়া এমন লেনদেন সম্ভব নয়।” তিনি আরও দাবি করেন, “ব্যবস্থাপক আমাকে বলেছেন ছয় লাখ টাকা ফেরত আনা হয়েছে, কিন্তু তা সত্য নয়।”
তিনি জানান, ব্যাংকের পাশাপাশি থানায় সহায়তা চাইতেও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে। পরে রাতেই তিনি সোনাগাজী মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, তাঁদের কাছে কোনো জিডি জমা পড়েনি। যদিও প্রতিবেদকের কাছে থাকা কপিতে ডিউটি অফিসারের স্বাক্ষর রয়েছে।
ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক দিদারুল আলম বলেন, “লেনদেনগুলো মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে হয়েছে। প্রতিবার গ্রাহকের মোবাইলে ওটিপি গেছে। এখন ওটিপি গ্রাহক নিজে ব্যবহার করেছেন, নাকি তাঁর পরিবারের কেউ—তা তদন্তেই জানা যাবে। অ্যাপস লেনদেন হেড অফিস তদারকি করে; শাখার কোনো দায় নেই।”
ব্যাংকার্স ফোরামের স্থানীয় সভাপতি মনসুরুল আলম বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তি অপব্যবহারকারী প্রতারক চক্র এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর প্রকৃত তথ্য জানা যাবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবার ব্যাংকের ‘দায় এড়ানোর প্রবণতায়’ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা দ্রুত তদন্ত ও আত্মসাৎ করা পুরো টাকা ফেরত পাওয়ার দাবি জানিয়েছেন।