টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ডেস্ক।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সব ধরণের জল্পনা ও তথ্যকে ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর পর চিকিৎসকরা স্পষ্ট করেছেন যে, মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন।
মেডিকেল বোর্ডের নিয়মিত তথ্যের বরাত দিয়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মারুফ রায়হান খান জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালেই বেগম জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। এর আগে যারা তার মৃত্যুর খবর প্রচার করেছিলেন, সেসব তথ্য সম্পূর্ণ ভুল ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।
শেষ মুহূর্তের চিকিৎসায় যা ঘটেছিল চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাতেও বেগম জিয়ার ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তবে রাত ১১টার পর থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে এবং তার রক্তচাপ বা ব্লাড প্রেশার আশঙ্কাজনকভাবে কমতে শুরু করে।
রাত ২টার দিকে চার ধরনের উচ্চমাত্রার জীবন রক্ষাকারী ইনজেকশন প্রয়োগ করা হলেও তার রক্তচাপ স্থিতিশীল করা যায়নি। ডা. মারুফ জানান, বেগম জিয়ার রক্তে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ‘টোটাল কাউন্ট’ মারাত্মকভাবে কমে গিয়েছিল। এছাড়া তার শরীরে এমন কিছু ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ দেখা দিয়েছিল, যা প্রচলিত কোনো অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল না (অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট)।
পরিবারকে তলব ও গুজবের প্রতিবাদ সোমবার দিবাগত রাতেই শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি ঘটলে পরিবারের সকল সদস্যকে হাসপাতালে ডেকে পাঠানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে লাইফ সাপোর্টে থাকা এই নেত্রীর অবস্থা মাঝে কিছুটা স্থিতিশীল হলে কয়েকবার লাইফ সাপোর্ট সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টাও করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার ভোরে তিনি চিরবিদায় নেন।
চিকিৎসক আক্ষেপ করে জানান, অনেক শিক্ষিত মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীও এই প্রবীণ রাজনীতিবিদের মৃত্যু নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছেন, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি স্পষ্ট করেন যে, মঙ্গলবার সকালেই বেগম জিয়া শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন এবং এর আগে তিনি জীবিত অবস্থায় যথাযথ চিকিৎসাধীন ছিলেন।
উল্লেখ্য, ৮০ বছর বয়সী বেগম খালেদা জিয়া লিভার ও কিডনি জটিলতাসহ নানাবিধ বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।