ঢাকাঃ আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১টি দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি নির্বাচনী সমঝোতা জোটের হয়ে ৩০টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৃহত্তর স্বার্থে এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংস্কারের লক্ষ্যে তারা এই কৌশলগত জোটে শামিল হয়েছে।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই জোটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
‘আদর্শিক নয়, কৌশলগত জোট’ জোট গঠনের প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী আদর্শিক ঐক্য নয়, বরং নির্বাচনের জন্য একটি বিশেষ কৌশলগত অবস্থান। তিনি উল্লেখ করেন, জোটের শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে সমঝোতা করতে গিয়ে এনসিপিকে অনেক ছাড় দিতে হয়েছে। তার মতে, আধিপত্যবাদ রুখে দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংস্কার নিশ্চিত করাই এই ১১ দলীয় জোটের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, এই জোটটি ভোটারদের আস্থা অর্জনে সফল হবে এবং শেষ পর্যন্ত সরকার গঠন করবে।
বাকি ২৭০ আসনে এনসিপির ভূমিকা এনসিপি কেবল নিজেদের জন্য নির্ধারিত ৩০টি আসনেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। আসিফ মাহমুদ জানান, দেশের বাকি ২৭০টি আসনে যেখানে তাদের কোনো প্রার্থী নেই, সেখানে তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালাবে। মূলত গণভোটের মাধ্যমে জনমত গঠন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় থাকাই হবে তাদের লক্ষ্য।
অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনের চেষ্টা নির্বাচনের আগে দলের ভেতর থেকে পদত্যাগ করার যে প্রবণতা দেখা গেছে, সেটিকে খুব একটা গুরুত্ব দিতে নারাজ এনসিপি নেতৃত্ব। আসিফ মাহমুদ বলেন, “যারা পদত্যাগপত্র দিয়েছেন তারা আমাদের দলের জন্য সম্পদ (অ্যাসেট)। তাদের পদত্যাগপত্র এখনো গ্রহণ করা হয়নি।” তিনি আরও যোগ করেন যে, মান-অভিমান ভুলে এখনো সবার একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১১ দলের এই নতুন জোট এবং এনসিপির এই অবস্থান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।