মনির আহমদ আজাদ
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার মূল স্তম্ভ হিসেবে পুলিশ, প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর ওপর জনগণের আস্থা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার অপরিহার্য শর্ত। কিন্তু সাম্প্রতিক বাস্তবতায় এ আস্থার ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ছে—এমন অভিযোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। নাগরিক সমাজ, মানবাধিকারকর্মী ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও জনবান্ধব চরিত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
বিভিন্ন ঘটনায় দেখা যায়, আইন প্রয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সমতা ও ন্যায়ের মানদণ্ড একরকম থাকে না। প্রভাবশালী মহলের নির্দেশনা, আমলাতান্ত্রিক স্বার্থ ও অর্থনৈতিক লেনদেন অনেক সময় সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে—এমন অভিযোগ উঠছে। ফলে সাধারণ নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথ দীর্ঘ ও অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে, আর ক্ষমতাবানদের জন্য নিয়ম যেন আলাদা হয়ে যাচ্ছে—এই বৈষম্যের বোধ সমাজে গভীর অসন্তোষ তৈরি করছে।
পুলিশি সেবায় ঘুষ, প্রশাসনিক ফাইল চলাচলে বিলম্ব ও ‘তদবির’ সংস্কৃতি, কিংবা শৃঙ্খলাবাহিনীর অভ্যন্তরে জবাবদিহির ঘাটতি—এসব অভিযোগ নতুন নয়। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব অনিয়ম যখন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেয়, তখন তা ব্যক্তিগত বিচ্যুতি নয়, বরং কাঠামোগত সমস্যার ইঙ্গিত দেয়। স্বচ্ছতা ও অভ্যন্তরীণ নজরদারি দুর্বল হলে ক্ষমতার অপব্যবহার সহজ হয়, আর দায়মুক্তির সংস্কৃতি শক্তিশালী হয়।
এ প্রেক্ষাপটে ‘ফ্যাসিবাদী কাঠামো’ শব্দবন্ধটি ব্যবহৃত হচ্ছে সেই প্রবণতা বোঝাতে, যেখানে মতপ্রকাশ ও বিরোধিতাকে দমনে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কঠোরভাবে প্রয়োগ হয়, অথচ ক্ষমতাবানদের ক্ষেত্রে আইন নমনীয় থাকে। এতে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, নাগরিক স্বাধীনতা সংকুচিত হয় এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। গণমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনেও এমন উদ্বেগ প্রতিফলিত হচ্ছে।
সমাধানের পথ হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন স্বাধীন তদন্ত, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নজরদারি, সম্পদ ও সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা, এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ-পদোন্নতির ওপর। একই সঙ্গে অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দ্রুততা ও শাস্তির নিশ্চয়তা ফিরিয়ে আনলে আস্থা পুনর্গঠন সম্ভব। রাষ্ট্রের শক্তি তার অস্ত্র বা ক্ষমতায় নয়, বরং নাগরিকের আস্থায়—এই সত্য উপলব্ধি করেই সংস্কারের পথে এগোনো এখন সময়ের দাবি।