ডেস্ক রিপোর্ট।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর প্রথম সাত দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৪২টি রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘাত ও সহিংসতায় এ পর্যন্ত চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি থেকে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলা এই সংঘাতগুলোতে চারজন নিহতের পাশাপাশি আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫৩ জন। নির্বাচনের মাঠের এই ক্রমবর্ধমান সহিংসতায় ভোটারদের মনে উদ্বেগ বাড়ছে।
সহিংসতার জেরে এই প্রথম কোনো বড় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। গত বুধবার শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে এক জামায়াত নেতা নিহত হন। ওই ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ ওঠায় সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।
রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে জেলা পর্যায় পর্যন্ত অন্তত ৩০টি আসনে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেলেও অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সংঘাতের সময় পুলিশ অনেকটা ‘নীরব দর্শকের’ ভূমিকা পালন করছে।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেছেন, “পুলিশ সংঘাত দমাতে গেলে অনেক সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।” পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, কোনো পক্ষ নিয়ে বিতর্কিত হওয়ার ভয়ে পুলিশ এখনই কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে মূল লড়াই জমে উঠেছে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মধ্যে। এক সময়কার মিত্র বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সম্পর্ক এখন সংঘাতপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু আসনে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও আরিফুল ইসলাম আদীবের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার দায়ভার বিএনপি সমর্থকদের ওপর চাপানো হয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারী কর্মীদের হেনস্তা করার বিষয়টি এবারের সহিংসতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জামায়াতে ইসলামীর অভিযোগ, তাদের নারী কর্মীদের ওপর শারীরিক হামলা করা হচ্ছে এবং জোরপূর্বক নেকাব খুলে ফেলা হচ্ছে। আসক এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এই ধরনের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নির্বাচনী মাঠে সকল প্রার্থীর সহাবস্থান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার আশ্বাস দিলেও মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন রূপ নিচ্ছে। প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি কতটুকু নিয়ন্ত্রণে আসে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।