নেত্রকোণাপ্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের বাউল জগতের পরিচিত মুখ ও গুণী শিল্পী সুনীল কর্মকার আর নেই। বেশ কিছুদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বাউল ও পালাগানের মঞ্চে ভরাট কণ্ঠের এই শিল্পীর প্রয়াণে সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সুনীল কর্মকারের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বাউল শিল্পী মুক্তা সরকার তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন।
নেত্রকোনায় জন্ম নেওয়া এই বাউল শিল্পী মাত্র সাত বছর বয়স থেকেই গানের জগতে পা রাখেন। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর গান শুনে কৈশোরেই সুরের মায়ায় মগ্ন হন তিনি। জীবনের একটি পর্যায়ে এসে তিনি চিরতরে তাঁর চোখের আলো হারান। তবে অন্ধত্ব তাঁকে সংগীতের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। দৃষ্টিহীন অবস্থাতেই তিনি দোতারা, বেহালা ও হারমোনিয়ামের মতো জটিল বাদ্যযন্ত্র বাজানোয় অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেন।
সুনীল কর্মকার কেবল একজন পারফরমার ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন সৃজনশীল স্রষ্টাও। ওস্তাদ জালাল উদ্দিন খাঁর অসংখ্য অপ্রকাশিত গানে তিনি নতুন করে সুর বসিয়েছিলেন এবং তা মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দিয়েছেন। এছাড়া তাঁর নিজের ঝুলিতেও রয়েছে প্রায় দেড় থেকে দুইশটি মৌলিক গান, যা তিনি নিজে রচনা ও সুরারোপ করেছেন।
পালাগান ও লোকসংগীতের আসরে তাঁর আবেগভরা কণ্ঠ আলাদা মাদকতা তৈরি করত। ভক্ত ও অনুরাগী মহলে তিনি কেবল একজন শিল্পী নন, বরং সংগীতের একনিষ্ঠ এক সাধক হিসেবেই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।