প্রতিনিধি, বিয়ানীবাজার
২৮ আগস্ট ২০২৬, রাত ৯টা ২২ মিনিট
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
‘তৌহিদী জনতার’ আপত্তি ও নানা জটিলতা কাটিয়ে সিলেটের বিয়ানীবাজারের সুনাই নদীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যস্থতায় শান্তিপূর্ণ সমাধানের পর শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে নদীর দুই পাড়ে হাজারো মানুষের ঢল নামে।
শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গাংপার যুব সমাজের উদ্যোগে এই নৌকাবাইচ শুরু হয়। বিয়ানীবাজার, বড়লেখা ও গোলাপগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজারো মানুষ এই উৎসবে যোগ দেন। তবে প্রতিযোগিতার ফাইনালে দুই নৌকা আলাদাভাবে দৌড় শেষ করায় চূড়ান্ত পর্বটি অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুনাই নদীতে প্রতিবছর নৌকাবাইচের আয়োজন করা হয়। তবে এবার একটি পক্ষের আপত্তির কারণে আয়োজন নিয়ে জটিলতা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যস্থতায় গত সোমবার (২৪ আগস্ট) সমঝোতা হয় এবং চলতি বছরের নৌকাবাইচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়।
প্রতিযোগিতায় কালিজুরির ‘পাগলা নৌকা’, শরীফগঞ্জের ‘হাকালুকি বাঘ নৌকা’ ও সুজানগরের ‘স্বাধীন বাংলা নৌকা’ অংশ নেয়। ফাইনালে ‘হাকালুকি বাঘ’ ও ‘পাগলা’ নৌকা মুখোমুখি হলেও একইসঙ্গে দৌড় না দেওয়ায় দর্শকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দেয়। তবে দীর্ঘ জটিলতার পর আয়োজনটি সফল হওয়ায় দর্শকদের মধ্যে উৎসাহ-উচ্ছ্বাসের কমতি ছিল না।
নৌকাবাইচ প্রসঙ্গে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, “নৌকাবাইচ আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। এটি কোনো ধর্মবিরোধী কাজ নয় এবং ধর্মের সঙ্গে এর কোনো সাংঘর্ষিকতা নেই। আমরা চাই প্রতিবছর নৌকাবাইচ আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে।”
তিনি আরও বলেন, “আগামী প্রজন্মের কাছে নৌকাবাইচের ঐতিহ্য তুলে ধরতে যা যা করার প্রয়োজন, আমরা সবাই মিলে তা করব। আগামী বছর লাউতা ইউনিয়নবাসী আরও সুন্দরভাবে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করবেন বলে আশা করি।”
অনুষ্ঠানে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার, বিয়ানীবাজার থানার ওসি আবু জাফর মো. মাহফুজুল করিমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আয়োজক সংগঠনের সদস্যরা জানান, মানুষের এই উপস্থিতিই প্রমাণ করে নৌকাবাইচ বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা কোনোভাবেই হারিয়ে যেতে দেওয়া যাবে না।