কৃষি ডেস্ক ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
বাংলাদেশের কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলায় আরও ছয়টি নতুন উন্নত জাতের ধান চাষাবাদের জন্য অনুমোদন দিয়েছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ ধান এবং হাওরাঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলের উপযোগী বিশেষ জাত।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় বীজ বোর্ডের এক সভায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবিত এই উচ্চ ফলনশীল জাতগুলো অবমুক্ত করা হয়। এর ফলে ব্রি উদ্ভাবিত মোট ধানের জাতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১২৭টিতে।
নতুন অনুমোদিত জাতগুলোর মধ্যে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ভিটামিন-ই সমৃদ্ধ একটি জাত। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট প্রতিকূলতা মোকাবিলায় উদ্ভাবন করা হয়েছে লবণাক্ততা সহনশীল ধান, যা উপকূলীয় কৃষকদের জন্য সহায়ক হবে।
হাওরাঞ্চলের বিশেষ আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে একটি ঠান্ডা সহনশীল ও আগাম জাতের ধান অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ধানের ফলন নষ্ট হওয়ার অন্যতম কারণ ‘ব্লাস্ট রোগ’ প্রতিরোধী একটি নতুন জাতও তালিকায় রয়েছে।
ছয়টি জাতের মধ্যে দুটি হলো হাইব্রিড প্রজাতির। এই জাত দুটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এগুলো ‘লজিং টলারেন্ট’ বা ঢলে পড়া প্রতিরোধী। অর্থাৎ ঝড় বা দুর্যোগে ধান গাছ সহজে মাটিতে হেলে পড়বে না, যা কৃষকের ফলন নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেবে।
কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ব্রির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুষ্টিগুণ সম্পন্ন এবং দুর্যোগ সহনশীল এই জাতগুলো দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা রাখবে।