দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার দুই মাসের মাথায় বাংলাদেশের ভাগ্যনির্ধারণী এক সাধারণ নির্বাচনে অবতীর্ণ হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের (১২ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনে জনমত জরিপ অনুযায়ী তারেক রহমানই এখন প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়ার পর গত বছরের ২৫শে ডিসেম্বর বীরের বেশে ঢাকায় পা রাখেন ৬০ বছর বয়সী এই নেতা। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এটিই দেশের প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যাকে গত দেড় দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
লন্ডনের নির্বাসিত জীবনে দলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দমন-পীড়নের সাক্ষী তারেক রহমান দেশে ফিরে এক ভিন্ন রাজনৈতিক স্টাইল গ্রহণ করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “প্রতিশোধ কারো জন্য ভালো কিছু বয়ে আনে না। প্রতিশোধের রাজনীতির কারণে মানুষকে দেশ ছাড়তে হয়। এই মুহূর্তে আমাদের যা প্রয়োজন তা হলো শান্তি ও স্থিতিশীলতা।”
ক্ষমতায় ফিরলে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দুই মেয়াদে বা সর্বোচ্চ ১০ বছরে সীমাবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি, যাতে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসনের জন্ম না হয়। এছাড়া পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চামড়া ও খেলনা শিল্পের উন্নয়ন এবং দরিদ্রদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেছেন তিনি।
তারেক রহমানের বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। পরিবারের এই শক্তিশালী রাজনৈতিক ভিত্তিকে পুঁজি করে তিনি এখন নিজেকে একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর সাথে নির্বাচনী প্রচারণায় যুক্ত হয়েছেন মেয়ে জাইমা রহমানও।
শেখ হাসিনার শাসনামলে তাঁর অনুপস্থিতিতেই ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলায় সাজা দেওয়া হয়েছিল তারেক রহমানকে। তবে হাসিনা সরকারের পতনের পর আদালত থেকে তিনি এসব অভিযোগ থেকে খালাস পেয়েছেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত থাকলেও তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি বাংলাদেশকে কোনো একটি বিশেষ দেশের ওপর নির্ভরশীল না করে সব আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলবেন।
আগামীকালের এই নির্বাচন তারেক রহমানের ব্যক্তিগত ভাগ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের আগামীর রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক গতিপথ নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।