গাজীপুর প্রতিনিধি।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর এলাকায় উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা একটি নবনির্মিত সড়ক কয়েক ফুট নিচে দেবে গেছে। প্রায় ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার আগেই ধসে পড়ায় কাজের মান ও তদারকি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
কাশিমপুরের ধনঞ্জয়খালী এলাকায় তুরাগ নদের পাড় ঘেঁষে নির্মিত এই সড়কের বিভিন্ন অংশে বড় ধরনের ফাটলও দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে দ্রুতগতিতে সড়কের ঢালাই কাজ শেষ করা হয়। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার তিন দিনের মাথায় রাস্তার একাংশে ফাটল দেখা দেয় এবং পরবর্তীতে কয়েক ফুট অংশ মাটির নিচে দেবে যায়। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সড়কটি ব্যবহারের আগেই এমন অবস্থায় পড়ায় হতাশ এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের প্রকৌশল বিভাগের সঠিক তদারকির অভাবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করার সুযোগ পেয়েছে।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানিয়েছে, বিটুমিনাস কার্পেটিংয়ের মাধ্যমে সড়ক উন্নয়নের জন্য দুটি প্যাকেজে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। ১২ নম্বর প্যাকেজে ১ হাজার ১৫০ মিটার সড়কের জন্য বরাদ্দ ছিল ১১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা এবং ৫ নম্বর প্যাকেজে ১২ হাজার ৪৬ মিটার সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। উভয় ক্ষেত্রেই প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে অনেক বেশি টাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড কমার্সিয়াল সেন্টার লিমিটেডকে (ইউসিসিএল) কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল।
সড়ক ধসের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম হারুনুর রশীদ জানিয়েছেন, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ডুয়েট) একজন শিক্ষকের নেতৃত্বে এই কমিটি কাজ করবে।
কাশিমপুর জোনের নির্বাহী প্রকৌশলী শামসুর রহমান বলেন, “সড়কটি নদীর পাড় ঘেঁষে হওয়ায় প্রাকৃতিক কারণেও এমনটা হতে পারে। তবে পরিকল্পনায় ত্রুটি বা নির্মাণে অনিয়ম প্রমাণিত হলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কেবল তদন্ত কমিটি গঠন করে দায় এড়ালে চলবে না। বরং অতিরিক্ত ব্যয়ে কার্যাদেশ দেওয়া এবং কাজের মান নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।