বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক |
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ কি ক্রমে ছোট হয়ে যাচ্ছে? সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, চাঁদের অভ্যন্তরীণ অংশ ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসায় পুরো উপগ্রহটি সংকুচিত হচ্ছে। এই সংকোচনের ফলে চাঁদের বুকে তৈরি হচ্ছে হাজার হাজার নতুন ফাটল, যা ভবিষ্যতে মানুষের চন্দ্রাভিযানে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চাঁদের বুকে ১,১১৪টি নতুন ফাটল শনাক্ত করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, চাঁদের অভ্যন্তরভাগ ঠান্ডা হওয়ার প্রক্রিয়ায় বাইরের স্তরে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়, যার ফলে এক অংশ অন্য অংশের ওপর উঠে গিয়ে শৈলশিরা বা ‘লোবেট স্কার্পস’ তৈরি করে। এর আগে এসব ফাটল কেবল উচ্চভূমিতে দেখা গেলেও, এবারই প্রথমবারের মতো চাঁদের অন্ধকার সমতল অঞ্চল বা ‘লুনার মারিয়া’তে ‘স্মল মেয়ার রিজ’ নামে নতুন ফাটল ধরা পড়েছে।
মহাকাশ গবেষকদের মতে, বর্তমানে চাঁদে এ ধরনের ফাটলের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২,৬৩৪টিতে। ধারণা করা হচ্ছে, নতুন শনাক্ত হওয়া এই ফাটলগুলোর গড় বয়স প্রায় ১২ কোটি ৪০ লাখ বছর। বিজ্ঞানীরা এই প্রক্রিয়াটিকে উত্তপ্ত লোহা ঠান্ডা হওয়ার পর সংকুচিত হওয়ার সাথে তুলনা করেছেন।
সামনে নাসার আর্টেমিস মিশনের মাধ্যমে আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এমন সময়ে চাঁদের এই ভৌগোলিক পরিবর্তন বিজ্ঞানীদের ভাবিয়ে তুলছে। বিজ্ঞানী কোল নাইপাভার এই গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “চাঁদ নিয়ে এখন খুব গুরুত্বপূর্ণ সময় চলছে। ভবিষ্যতে সেখানে কাজ করতে গেলে চন্দ্রকম্প বা ভূমিকম্পের বিষয়টি জানা অত্যন্ত জরুরি। কারণ এই ভূ-তাত্ত্বিক অস্থিরতা নভোচারী ও অবকাঠামোর জন্য বড় ঝুঁকি হতে পারে।”
গবেষকরা মনে করছেন, চাঁদের তাপমাত্রা পরিবর্তন ও এর অভ্যন্তরীণ গঠন বোঝার ক্ষেত্রে এই নতুন তথ্যগুলো অত্যন্ত সহায়ক হবে। সংকোচন ও কম্পনের ইতিহাস জানা থাকলে ভবিষ্যতের চন্দ্রাভিযানগুলো আরও নিরাপদ করা সম্ভব হবে।