–মোঃ আব্দুল আাউয়াল
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
আমাদের শৈশব—
এক বিচ্যুত গ্রহের ব্যবচ্ছেদিত পাণ্ডুলিপি,
স্মৃতির শবাচ্ছাদনের নিচে ধিকধিক করা এক আদিম হিরণ্ময় কণা।
তবু এক অলৌকিক বাতায়নে
গন্ধরাজের শ্বেত-সংকেত—
যেন এক ছায়াহীন শরীর
নিজের রক্তশূন্য নাম ধরে আমাদের ডাকে।
কে সেই নিঃশব্দ সূত্রধর ?
যিনি অসম্ভবের দাহ দিয়ে
মহাকাশের নীল সময়পুড়িয়ে দেন?
কেন এক ভাঙা বীণার কাষ্ঠখণ্ডে
জমে থাকে কান্নার স্বচ্ছ পাথর?
কেন এক বিন্দু সুরের নাভি থেকে
ধীরে ধীরে জন্ম নেয়
কালজয়ী নদীর এক অবাস্তব কঙ্কাল?
হে সময়-
যদি আমার প্রবাহের মানচিত্র আঁকো—
তার অন্তে এক কৃষ্ণবর্ণ গহ্বর রেখো;
যেখানে যাবতীয় তরল স্মৃতি
থিতিয়ে গিয়ে এক অবিনশ্বর লবণে রূপান্তরিত হয়।
যদি স্মৃতি দাও,
তাকে ধূলির মতো বিচ্ছিন্ন করো না—
গেঁথে দাও এক মহাজাগতিক নক্ষত্রপুঞ্জে,
মানুষের গ্রীবায় দুলুক
এক সহস্র জন্মের নির্বাপিত নক্ষত্র।
আমাকে এক স্থির মহাবৃক্ষ করো—
আমার মেরুদণ্ডের ডালে বসুক
মহাকালের সেই কালো বায়স,
যার চঞ্চুতে বিদ্ধ থাকুক
অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের এক জটিল কোষাগার।
তারপর আমরা— দুই ছায়া,
হৃৎপিণ্ডের অন্ধকার গুহাচিত্র উন্মোচন করে
ধীরে ধীরে প্রহর গুনি—
কত লক্ষ জন্মের প্রাচীন জ্যোৎস্না !!
এখনও আমাদের অস্থিমজ্জায়
আগুন হয়ে জ্বলে।
১০/০৩/২৬ ইং।