ডেস্ক নিউজ।
দেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ পেতে হোয়াটসঅ্যাপে টেলিগ্রাফ বাংলাদেশ ফলো করুন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে হঠাৎ বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার এশিয়ার বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সকালে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম দাঁড়ায় ৯৪ দশমিক ৬৯ ডলার, যা গত শুক্রবারের ৯০ দশমিক ৪০ ডলারের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বিশ্লেষকদের মতে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সরবরাহ অনিশ্চয়তাই এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ।
এই পরিস্থিতির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি জানান, মার্কিন বাহিনী ইরানের পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ জব্দ করেছে, যা নৌ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।
এর আগে, ইউনাইটেড কিংডম মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএসটিও) জানায়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানি গানবোট থেকে গুলি ছোড়া হয় এবং একটি কনটেইনার জাহাজে অজ্ঞাত বস্তু আঘাত হানে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন ইরান প্রথমে প্রণালিটি ‘সম্পূর্ণ খোলা’ ঘোষণা করলেও ২৪ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে অবস্থান বদলে আবার সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকায় তেহরানের এই পদক্ষেপ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে কূটনৈতিক পর্যায়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চললেও সেখানেও মিলছে মিশ্র সংকেত। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, নতুন করে আলোচনা শুরু করতে তারা পাকিস্তানে প্রতিনিধি দল পাঠাবে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানায়, মার্কিন অবরোধ ও ‘অবাস্তব শর্তের’ কারণে তেহরান এই আলোচনায় অংশ নেবে না।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বুধবার শেষ হওয়ার কথা। এর আগে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি—বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালিতে অস্থিরতা দেখা দিলে তার প্রভাব সরাসরি বিশ্ববাজারে পড়ে।
ইউকেএসটিওর তথ্য অনুযায়ী, শনিবার এই প্রণালি দিয়ে ১৯টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি হলেও স্বাভাবিক সময়ের গড় ১৩৮টির তুলনায় অনেক কম।
তবে এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও এশিয়ার শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সোমবার জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ শতাংশের বেশি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। হংকং ও চীনের বাজারেও সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।